দীর্ঘ সংঘাতের পর যুদ্ধ বন্ধে শান্তিচুক্তিতে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ দুই দেশের মধ্যে সমঝোতার ঘোষণা দেওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এরই মধ্যে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহর নিউজ সম্ভাব্য সমঝোতা স্মারকের ১৪ দফা প্রকাশ করেছে। যদিও এসব শর্ত এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ওয়াশিংটন বা তেহরানের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়নি।

চুক্তিতে যেসব বিষয় থাকছে
লেবানন-সহ সব ফ্রন্টে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা।


ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার প্রতিশ্রুতি দেবে যুক্তরাষ্ট্র।
৩০ দিনের মধ্যে ইরানের বন্দর ঘিরে থাকা মার্কিন নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া হবে।
ইরান থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহারের বিষয়টি বাস্তবায়ন করা হবে।
ইরানের তত্ত্বাবধানে ৩০ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা হবে।
ইরানের পুনর্গঠনের জন্য অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা পরিকল্পনা দেবে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা।

ইরানের তেল ও জ্বালানি খাতের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে।
পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করবে তেহরান।
ওই অঞ্চলে সামরিক শক্তি বৃদ্ধি এবং নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ থেকে বিরত থাকার প্রতিশ্রুতি দেবে ওয়াশিংটন।

মেহর নিউজ জানিয়েছে, ইরানের জব্দ করা সম্পদের অন্তত অর্ধেক মুক্ত না হওয়া, তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং নৌ অবরোধ না ওঠা পর্যন্ত চূড়ান্ত সমঝোতার আলোচনা শুরু হবে না। ভবিষ্যতে স্বাক্ষরিত চূড়ান্ত চুক্তি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের মাধ্যমে অনুমোদনেরও পরিকল্পনা রয়েছে।


ট্রাম্পের ঘোষণা

চুক্তি নিয়ে ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, হরমুজ প্রণালি টোলমুক্তভাবে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে এবং মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধ তুলে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, এই সমঝোতা শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের জন্য নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তাঁর দাবি, পূর্ববর্তী মার্কিন প্রশাসনগুলো যেখানে ব্যর্থ হয়েছে, সেখানে তাঁর প্রশাসন একটি ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জন করেছে।

চুক্তির ঘোষণার পর ইসরায়েলের ডানপন্থী রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যমগুলো ট্রাম্পের এই উদ্যোগের কড়া সমালোচনা শুরু করেছে।