হলুদ জার্সিতে ভরা গ্যালারি, সাম্বার তালে উচ্ছ্বাস—সবই ছিল। কিন্তু মাঠে দেখা গেল না চেনা ব্রাজিলকে। ভিনিসিয়াস জুনিয়রের দুর্দান্ত এক গোল ব্রাজিলকে হার থেকে বাঁচালেও, মরক্কোর বিরুদ্ধে ১-১ ড্র দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। প্রথম ম্যাচের পর থেকেই কার্লো আনচেলত্তির দলের পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে সমর্থকদের মধ্যে।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে মরক্কো।

দ্রুত পাস এবং হাই প্রেসিংয়ের সামনে ব্রাজিলের মাঝমাঠকে বেশ অস্বস্তিতে দেখা যায়। ২১ মিনিটে ব্রাহিম দিয়াজের অসাধারণ পাস থেকে গোল করে মরক্কোকে এগিয়ে দেন ইসমাইল সাইবাড়ি। অ্যালিসনকে পরাস্ত করে নিখুঁত ফিনিশে গোল করে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি।

গোল খাওয়ার পরও ব্রাজিলের খেলায় খুব বেশি ছন্দ দেখা যায়নি। তবে ৩২ মিনিটে নিজের ব্যক্তিগত দক্ষতায় ম্যাচে সমতা ফেরান ভিনিসিয়াস জুনিয়র।

বাঁ দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে একাধিক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে কঠিন কোণ থেকে অসাধারণ শটে বল জালে জড়ান রিয়াল মাদ্রিদ তারকা। তাঁর এই দুর্দান্ত গোলই ব্রাজিলকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনে। প্রথমার্ধ শেষ হয় ১-১ সমতায়।

দ্বিতীয়ার্ধে বেশ কিছু পরিবর্তন করেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি। এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই নিজেদের হাতে নেয় ব্রাজিল।

একাধিক আক্রমণ তৈরি হলেও শেষ মুহূর্তে সঠিক পাস এবং ফিনিশিংয়ের অভাবে গোলের দেখা মেলেনি। ম্যাচের শেষ দিকে ভিনিসিয়াসের তৈরি করা সহজ সুযোগও কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন রাফিনিয়া।
অন্যদিকে, পাল্টা আক্রমণে মরক্কোও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছিল। শেষ মুহূর্তে গোলরক্ষক অ্যালিসনের দুর্দান্ত সেভ ব্রাজিলকে পরাজয়ের হাত থেকে রক্ষা করে।
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে ড্র অবশ্য বড় বিপর্যয় নয়। তবে এই ম্যাচে ব্রাজিলের ছন্নছাড়া ফুটবল চিন্তায় ফেলেছে সমর্থকদের। 

ভিনিসিয়াসের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স আশার আলো দেখালেও দলগত পারফরম্যান্সে যে এখনও অনেক উন্নতির প্রয়োজন, তা স্পষ্ট হয়ে গেল। অন্যদিকে, মরক্কো আবারও প্রমাণ করল যে তারা আর শুধু ‘ডার্ক হর্স’ নয়, বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম শক্তিশালী দল হিসেবেই নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে।