পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ আগামী ২০ জুন ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ উপলক্ষে রাজ্যে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রধানমন্ত্রীর সেই হাই-প্রোফাইল সফরের আগেই তাঁর সাধের ‘স্বচ্ছতা প্রকল্প’ নিয়ে রাজ্য জুড়ে মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে নতুন সরকার। এই কর্মসূচির অঙ্গ হিসেবেই সোমবার থেকে শহরের সাফাই অভিযানে নামছে কলকাতা পুরসভা । আর সেই বিশেষ অভিযানের সূচনা করতেই সোমবার পুরসভার সদর দফতরে সশরীরে উপস্থিত থাকতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ।

সেই অনুষ্ঠানে বিজেপির পাশাপাশি তৃণমূলের কাউন্সিলরদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আর সেই কর্মসূচীতে কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম, দেবাশিস কুমার, অসীম বসু-সহ মেয়র পারিষদদের অনেকেই এই কেন্দ্রীয় কর্মসূচিতে যোগ দিচ্ছেন বলে খবর। তবে ফিরহাদ হাকিমের পদত্যাগের পর বিকল্প মেয়র খুঁজতে যে কয়েকজন কাউন্সিলর সই করেছিলেন তাঁদের অনেকেই এই কর্মসূচিতে যাচ্ছেন না বলে খবর। 

অবশ্য রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর কলকাতা পুরসভার কোনও দফতরে পা রাখা শুভেন্দুর কাছে নতুন কিছু নয়।

এর আগে নিজের বিধানসভা কেন্দ্র ভবানীপুরের অন্তর্গত ৯ নম্বর বোরোর আলিপুর অফিসে গিয়ে প্রশাসনিক বৈঠক করেছিলেন তিনি। তবে  গত ৪ মে রাজ্যে ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পালাবদলের পর তৃণমূলকে হটিয়ে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি সরকার। এর পরেই কলকাতা পুরসভাতেও ক্ষমতাচ্যুত হয় ঘাসফুল শিবির। সম্প্রতি কলকাতা পুরসভার মেয়রের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন ফিরহাদ হাকিম।
চলতি বছর ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত বর্তমান পুরবোর্ডের মেয়াদ থাকলেও, মেয়রের এই আকস্মিক পদত্যাগের আইনি জেরে বাতিল হয়ে যায় গোটা পুরবোর্ড।

এই পরিস্থিতিতে শহরের পুর-প্রশাসন সচল রাখতে কেএমসি-র কমিশনার স্মিতা পাণ্ডেকেই ‘প্রশাসক’ হিসেবে নিয়োগ করেছে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, আগামী পুরভোট না হওয়া পর্যন্ত এই অন্তর্র্বতী প্রশাসনিক ব্যবস্থার মাধ্যমেই পরিচালিত হবে কলকাতা পুরসভা।

তবে এই অন্তর্র্বতী সময়ে নতুন প্রশাসকের সামনে রয়েছে মস্ত বড় চ্যালেঞ্জ। প্রথমত দোরগোড়ায় কড়া নাড়ছে বর্ষা, আর তার পরেই বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো-সহ গোটা উৎসবের মরসুম সামাল দিতে হবে কলকাতা পুরসভাকে। এই কঠিন সময়ে কলকাতার নাগরিক পরিষেবা স্বাভাবিক রাখতে রাজ্য সরকারের সঙ্গে পুর-প্রশাসনের নিবিড় সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।