মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়ে ইসরাইলকে আর কোনও হামলা না চালানোর বার্তা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রবিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ইসরাইলের বিমান হামলা চালানো উচিত হয়নি এবং এখন সব পক্ষেরই সংযম দেখানো প্রয়োজন।
আরও পড়ুন:
ট্রাম্প দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ শান্তি চুক্তি খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে, যা লেবানন-সহ গোটা অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে পারে। তাঁর কথায়, “আমরা এমন একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি রয়েছি, যা পুরো অঞ্চলে শান্তি ফিরিয়ে আনবে।
এখন সব পক্ষেরই আক্রমণ বন্ধ করা উচিত। এটি দীর্ঘস্থায়ী ও সুন্দর শান্তির সূচনা হতে পারে, তাই এই সুযোগ হাতছাড়া করা উচিত নয়।”এর আগেও ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি শিগগিরই স্বাক্ষরিত হতে পারে এবং চুক্তি সম্পন্ন হলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি আবার আন্তর্জাতিক নৌচলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। তবে চুক্তিটি রবিবারই সই হবে কি না, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করে কিছু বলেননি।
যদিও ওয়াশিংটনের আশাবাদী অবস্থানের বিপরীতে তেহরান জানিয়েছে, এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ইরানের আধা-সরকারি ফার্স নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চুক্তি নিয়ে আলোচনা এগোলেও তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাইও জানিয়েছেন, চুক্তি স্বাক্ষরের কোনও নির্দিষ্ট দিন ঠিক হয়নি এবং রবিবার কোনও চুক্তি হচ্ছে না।
তবে ইরানি কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন, দুই পক্ষ সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেছে এবং আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। একইসঙ্গে একাধিক মধ্যস্থতাকারী দেশ ইঙ্গিত দিয়েছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই একটি সমঝোতা হতে পারে।
এই প্রেক্ষাপটে রবিবার কাতারের একটি প্রতিনিধিদল তেহরানে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে ইরানি সংবাদমাধ্যম। কূটনৈতিক সূত্রের মতে, চুক্তির চূড়ান্ত রূপ দিতে চলমান আলোচনাকে এগিয়ে নিতেই এই সফর। পাকিস্তানও দাবি করেছে, আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই একটি সমঝোতা সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আরও পড়ুন:
তবে ট্রাম্পের বারবার দ্রুত সাফল্যের দাবি এবং ইরানের সতর্ক অবস্থানের মধ্যে স্পষ্ট ফারাক তৈরি হওয়ায়, সম্ভাব্য এই চুক্তি ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে এখনও অনিশ্চয়তা কাটেনি। কূটনৈতিক মহলের মতে, আশাবাদ ও বাস্তবতার মাঝখানেই এখন দাঁড়িয়ে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের বহুল প্রতীক্ষিত শান্তি প্রক্রিয়া।