পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: অযোধ্যার রামমন্দিরে ভক্তদের দেওয়া রামমন্দির অনুদান-এর একটি অংশের হিসাব মিলছে না। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে ধর্মীয় পরিসরেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। এবার পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে উত্তর প্রদেশ সরকার একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করল। বিতর্কের সূত্রপাত সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদবের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে। তিনি দাবি করেন, মন্দিরে ভক্তদের দেওয়া বিপুল পরিমাণ অনুদানের অর্থের মধ্যে কয়েক কোটি টাকার হদিস পাওয়া যাচ্ছে না।

একই সঙ্গে তিনি আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়ে বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।

জানা গেছে, মন্দির প্রাঙ্গণে রাখা একাধিক অনুদান বাক্সের অর্থের হিসাব নিয়ে সন্দেহ তৈরি হওয়ার পরই বিষয়টি গুরুত্ব পায়। এরপর রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্ট পৃথক তদন্তের দাবি জানায়। ট্রাস্টের অনুরোধের ভিত্তিতেই উত্তর প্রদেশ সরকার তিন সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করেছে। এই দলে প্রশাসন, পুলিশ এবং অর্থ দফতরের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের রাখা হয়েছে।

তাঁদের দায়িত্ব হবে রামমন্দির অনুদান সংগ্রহ, সংরক্ষণ, গণনা এবং ব্যবস্থাপনার পুরো প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখা।

সূত্রের খবর, তদন্তকারীরা মন্দিরের সেই সব কর্মী ও সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারেন, যাঁরা অনুদানের অর্থ গণনা ও রক্ষণাবেক্ষণের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পাশাপাশি মন্দির চত্বরে থাকা নজরদারি ক্যামেরার রেকর্ডও পরীক্ষা করে দেখা হবে। প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ ব্রিজভূষণ শরণ সিংও অনুদানের অর্থ ব্যবহারে অনিয়মের ইঙ্গিত দেন। যদিও তিনি প্রকাশ্যে বিস্তারিত কিছু বলতে চাননি।

তাঁর মন্তব্যের পর বিষয়টি আরও আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে।

এদিকে বিজেপির নেতা রজনীশ সিং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে চিঠি পাঠিয়ে মন্দির ট্রাস্টের আর্থিক লেনদেন, অনুদানের পরিমাণ, ব্যয়ের খতিয়ান এবং ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করার দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে, উত্তর প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি অজয় রাই উচ্চ আদালতের বিচারপতির তত্ত্বাবধানে নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। রাম মন্দির ট্রাস্টের জেনারেল সেক্রেটারি চম্পত রাই বলেছেন, মন্দিরে অভ্যন্তরীণ অডিট চলছে। এখনও পর্যন্ত রামমন্দির অনুদান সংক্রান্ত আর্থিক বেনিয়মের কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি।