পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: ভোপালের এইমস হাসপাতালে চিকিৎসায় গাফিলতি নিয়ে অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। যার জেরে প্রাণ হারিয়েছে তিন বছর বয়সি এক শিশু। অভিযোগ উঠেছে, ওই শিশুকে ওষুধের বদলে সিরিঞ্জের মাধ্যমে বিষাক্ত ফর্মালিন দেওয়া হয়েছিল, যা তার অকাল মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। মধ্যপ্রদেশের ভোপালে অবস্থিত এইমস হাসপাতালে ঘটা এই ঘটনাটি সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবার নিরাপত্তা ও মান নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। মৃত শিশুটির নাম সার্থক যাদব। এই ঘটনায় হাসপাতালের দুই নার্সের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই পুলিশ মামলা দায়ের করেছে এবং অভিযোগের ভিত্তিতে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে প্রশাসন।
আরও পড়ুন:
জানা গিয়েছে, সার্থক মধ্যপ্রদেশের সাগর জেলার বাসিন্দা ছিল। শিশুটি লিউকেমিয়া বা ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিল। গত বছরের ডিসেম্বর মাসে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভোপালের এইমস হাসপাতালের শিশু বিভাগে ভর্তি করানো হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। তদন্তে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানতে পারে, শিশুটির আইভি লাইন ব্লক হয়ে গিয়েছিল। তখন এক নার্স সিরিঞ্জ ব্যবহার করেছিলেন।
তিনি ভেবেছিলেন তাতে ওষুধ রয়েছে। কিন্তু আসলে সেটি ছিল ফর্মালিন। চিকিৎসায় গাফিলতি যে কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তা এই ঘটনা থেকেই স্পষ্ট। জানা যায়, এই রাসায়নিক মূলত ব্যবহার করা হয় মৃতদেহ সংরক্ষণের জন্য এবং এটি অত্যন্ত বিষাক্ত। ফর্মালিন শিশুর শরীরে প্রবেশ করার কিছুক্ষণের মধ্যেই শিশুটি অচেতন হয়ে পড়ে। পরে তাকে পেডিয়াট্রিক আইসিইউ-তে নিয়ে গিয়ে সিপিআর-সহ জরুরি চিকিৎসা দেওয়া হলেও শেষ রক্ষা হয়নি।আরও পড়ুন:
তদন্তে আরও বেরিয়ে এসেছে যে, বায়োপসি প্রক্রিয়ার জন্য ব্যবহৃত ফর্মালিন ভর্তি সিরিঞ্জটি কাজ শেষ হওয়ার পরে নিরাপদে সংরক্ষণ বা নষ্ট করা হয়নি। এমনকি সেটি রোগীর শয্যার পাশেই ফেলে রাখা হয়েছিল। এই গুরুতর গাফিলতির জেরে রোগীর সুরক্ষার বিষয়ে হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট কর্মীদের চরম উদাসীনতা ও দায়িত্বজ্ঞানহীনতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এই ঘটনার ভিত্তিতে ভোপালের বাগসেওনিয়া থানার পুলিশ দুই নার্সিং আধিকারিকের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করেছে। এদিকে, হাসপাতালের পক্ষ থেকেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে তাদের সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। চিকিৎসায় গাফিলতি রোধে এবং ভবিষ্যতে এমন মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।