পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ বিদ্রোহী শিবিরে নাম লিখিয়েছেন দীর্ঘদিনের তৃণমূল নেত্রী ও সাংসদ মালা রায়। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে তিনি মহিলা তৃণমূলের সভানেত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। তারপরেই দলের নতুন মুখ বেছে নিল তৃণমূল কংগ্রেস। শুক্রবার নদিয়ার কালীগঞ্জের বিধায়ক আলিফা আহমেদকে এই পদে বসালো দল। রাজ্য সভানেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য চিঠি পাঠিয়ে আলিফাকে এই দায়িত্ব গ্রহণ করতে বলেন। কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র নিজের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে এই খবর ঘোষণা করেন। নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পরেই দলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন আলিফা।

এর আগে দীর্ঘ সময় ধরে তৃণমূলের মহিলা শাখার সভানেত্রীর পদ সামলেছেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য।

তবে পরবর্তীতে তাঁকে রাজ্য সভানেত্রী পদে উন্নীত করা হয়। পরে এই পদে আনা হয় কলকাতা দক্ষিণের সাংসদ মালা রায়কে। ২০২১ সাল থেকে তিনি মহিলা তৃণমূলের সভানেত্রীর দায়িত্বও সামলাচ্ছিলেন। এরসঙ্গে কলকাতা পুরসভার চেয়ারপার্সন হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি। যদিও কলকাতা পুরসভার পুরবোর্ড ভেঙে গিয়েছে।

ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের পরেই অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে দল বড়সড় ধাক্কা খায়। দলের মধ্যেই জন্ম নেয় বিদ্রোহী শিবির। বিধানসভায় দলের একাংশ বিদ্রোহী বিধায়ক সমর্থন করেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে, অন্যদিকে লোকসভায় সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে বিদ্রোহী সাংসদরা এনডিএ-কে সমর্থন জানানোর ইঙ্গিত দেন।

১৯ জন সাংসদ স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দেন। তাতে ১৮ নম্বরে নাম রয়েছে দক্ষিণ কলকাতার সাংসদ মালা রায়ের। এরপরেই তিনি ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদ থেকে ইস্তফা দেন। জানা যায়, গত ৮ জুন মালা রায় নিজেই পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলেন। তবে শুক্রবার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এবার নতুন সভানেত্রী হলেন আলিফা আহমেদ।

উল্লেখ্য, আলিফা প্রথমবার বিধায়ক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন ২০২৪ সালে। ওই বছর উপনির্বাচনে তিনি বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন।

পরে ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনেও তাঁর ওপর আস্থা রাখে তৃণমূল কংগ্রেস। তখনও বড় ব্যবধানে জয়লাভ করেন আলিফা। আর এবার তাঁকে বড় পদ দিল দল। নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পরেই আলিফা সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও বার্তায় দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাজ্য সভাপতি চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, কালীগঞ্জবাসীর ভালোবাসা ছাড়া এই জয় সম্ভব হত না। দল তাঁকে মহিলা তৃণমূল পদের যোগ্য মনে করায় তিনি কৃতজ্ঞ। এবার তিনি গোটা রাজ্যের মানুষের জন্য কাজ করতে পারবেন। দায়িত্বের সঙ্গে কাজ করবেন বলে জানান। একইসঙ্গে দলের এই ভাঙনের সময়ে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার বার্তা দেন আলিফা।