পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: আগামী লোকসভা নির্বাচনে বিজেপিকে পরাজিত করার রণকৌশল নির্ধারণে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের এক অভ্যন্তরীণ বৈঠকে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধি। জোটের শরিক দলগুলির সমালোচনা ও ক্ষোভকে হাসিমুখে মেনে নেওয়ার বার্তা দিয়ে রাহুল স্পষ্ট জানিয়েছেন, জোটের ঐক্য বজায় রাখতে কংগ্রেস ‘নীলকণ্ঠ শিব’-এর ভূমিকা পালন করতেও রাজি, যিনি সমুদ্রমন্থনের সমস্ত বিষ নিজে পান করেছিলেন। গত সোমবার অনুষ্ঠিত হওয়া ওই রুদ্ধশ্বাস বৈঠকের রাহুল গান্ধির দেওয়া সম্পূর্ণ বক্তব্য এবং অডিও রেকর্ডিংটি শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছে জাতীয় কংগ্রেস।

প্রকাশিত বক্তব্য অনুযায়ী, বৈঠকে বেশ কিছু আঞ্চলিক দল কংগ্রেসের ‘দাদাগিরি’ বা একাধিপত্যের মনোভাব নিয়ে সমালোচনা করলেও, সকলেই মেনে নেন যে বিজেপি-বিরোধী লড়াইয়ে কংগ্রেসই একমাত্র প্রধান শক্তি।

জোটের দলগুলির মধ্যে তৈরি হওয়া এক ধরণের হতাশা দূর করার চেষ্টা করে রাহুল গান্ধি বলেন, "আমি লক্ষ্য করছি যে আমাদের আলোচনায় প্রায়ই একটা হতাশার সুর বা বিষণ্ণতা ফুটে উঠছে। অনেকে ভাবছেন, ‘হায় ভগবান, আমরা কীভাবে বিজেপিকে হারাব?’ আমি আপনাদের বুক ঠুকে বলতে পারি, আমরা যদি সবাই একসাথে শক্ত হয়ে রুখে দাঁড়াই, তবে এই বিজেপিকে হারানো অত্যন্ত সহজ।"

বৈঠকে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগের উত্তর না দিয়ে রাহুল শৈব ঐতিহ্যের উপমা টেনে বলেন, "এখানে আমার ভূমিকা হলো শিবের মতো সমস্ত বিষ নিজে গিলে নেওয়া।

আমার বা কংগ্রেস দলের প্রতি আপনাদের যত সমালোচনাই থাকুক না কেন—আমরা তা হাসিমুখে মেনে নেব। আমরা আপনাদের খুশি রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করব, কারণ আমাদের মূল কাজই হলো সবাইকে ভালোবাসা এবং স্নেহের বন্ধনে এক সুতোয় বেঁধে রাখা।"

সমাজবাদী পার্টি, তৃণমূল কংগ্রেস এবং রাষ্ট্রীয় জনতা দল-এর মতো শক্তিশালী আঞ্চলিক দলগুলিকে সতর্ক করে রাহুল বলেন যে তারা অতীতে যে রাজনৈতিক কৌশল ব্যবহার করে এসেছে, তা বর্তমান ভারতে আর কাজ করবে না। রাহুলের কথায়, "আমি দুঃখের সাথে বলছি, আমাদের এই গোষ্ঠীর মধ্যে একটা মস্ত বড় বিভ্রান্তি রয়েছে।

আপনারা ভাবছেন পুরনো রাজনৈতিক অস্ত্র দিয়েই লড়াই করা যাবে। কিন্তু মনে রাখবেন, সেই খেলার মাঠটাই এখন আর নেই। আইনি ব্যবস্থা, আমলাতন্ত্র, গোয়েন্দা সংস্থা থেকে শুরু করে নির্বাচন কমিশন—রাষ্ট্রের সমস্ত প্রতিষ্ঠানকে এখন বিজেপি নিয়ন্ত্রণ করছে।" 

বিরোধী দলনেতার কথায়, "আপনারা ভাবছেন আমাদের আসল চ্যালেঞ্জ হলো আগামী নির্বাচনে জয়লাভ করা। কিন্তু দেশের মানুষের মনে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে এতটাই ক্ষোভ রয়েছে যে, আগামী নির্বাচন ইতিমধ্যেই মানুষ মনে মনে আমাদের জিতিয়ে দিয়েছে। আসল সমস্যা হলো আরএসএস দ্বারা ভারতের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর দখলদারিত্ব। এর ফলে ভবিষ্যতে আপনারা আর কোনো অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনই পাবেন না।"