পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনরত পড়ুয়াদের উপর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ তুলে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে কড়া চিঠি দিলেন বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। চিঠিতে তিনি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে সরকারের কাছ থেকে জবাবদিহি চেয়েছেন। কংগ্রেস সাংসদ জানিয়েছেন, একটি স্বচ্ছ এবং দায়বদ্ধ শিক্ষাব্যবস্থার দাবিতে পড়ুয়ারা শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন। কিন্তু সরকার তাঁদের কথা শোনার বদলে নির্মমভাবে বলপ্রয়োগ করেছে।
আরও পড়ুন:
চিঠির শুরুতেই রাহুল গান্ধী গত ২০ জুলাই, ২০২৬ তারিখে দিল্লিতে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারী পড়ুয়াদের উপর হওয়া এই আক্রমণকে 'বর্বর' বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, নিরাপত্তা বাহিনী আন্দোলনকারীদের উপর প্রাণঘাতী অস্ত্র ও কাঁদানে গ্যাস-সহ নির্বিচারে বলপ্রয়োগ করেছে। এর ফলে শত শত পড়ুয়া গুরুতর আহত হয়েছেন। তিনি আরও গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন যে, পুলিশকর্মীরা ছাত্রীদের উপর হামলা চালিয়েছেন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁদের গোপনাঙ্গেও আঘাত করেছেন।
প্রতিবাদ দমাতে পেলেট গানের ব্যবহার করা হয়েছে বলেও তিনি চিঠিতে উল্লেখ করেছেন, যা তাঁর মতে এই দমনপীড়নের সবচেয়ে মর্মান্তিক দিক।আরও পড়ুন:
সংবাদমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়া রিপোর্টের উল্লেখ করে রাহুল জানান, এই ঘটনায় এক সাংবাদিক-সহ বহু মানুষ গুরুতর জখম হয়েছেন। তিনি সাহিল লোচাব নামে ১৯ বছর বয়সি এক পড়ুয়ার সঙ্গে দেখা করার কথাও চিঠিতে তুলে ধরেছেন। পেলেট গানের আঘাতে সাহিল বর্তমানে তীব্র যন্ত্রণায় ভুগছেন এবং সম্ভবত তাঁর একটি চোখ নষ্ট হতে চলেছে।
দিল্লিতে মোতায়েন থাকা নিরাপত্তা বাহিনী শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অধীনেই কাজ করে, এই কথা মনে করিয়ে দিয়ে রাহুল গান্ধী সরাসরি অমিত শাহের কাছে দু'টি বিষয়ের স্পষ্ট জবাব চেয়েছেন।আরও পড়ুন:
প্রথমত, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কি পড়ুয়াদের উপর পেলেট গানের মতো প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিলেন? যদি না দিয়ে থাকেন, তবে কে এই নির্দেশ দিল? দ্বিতীয়ত, সাদা পোশাকে যাঁরা লাঠি দিয়ে পড়ুয়াদের মারধর করছিলেন, তাঁরা কারা? তাঁরা কি পুলিশকর্মী নাকি অন্য কেউ? তাঁদের সেখানে মোতায়েন করার অনুমতিই বা কে দিয়েছিল? যদিও রাহুল গান্ধীর এই চিঠির বিষয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফ থেকে এখনও পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।