পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: দেশের প্রথম ভাষা ও শব্দ বিষয়ক জাদুঘর ‘শব্দলোক’-এর উদ্বোধন হল কলকাতার ন্যাশনাল লাইব্রেরিতে। এই জাদুঘরের উদ্বোধন করে বাংলার সমৃদ্ধ সংস্কৃতির ভূয়সী প্রশংসা করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর মতে, বাংলা তার সংস্কৃতির জোরে ভারতকে পাঁচ দশক এগিয়ে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে। ভাষা এবং শব্দের তাৎপর্য বুঝিয়ে তিনি বলেন, মানুষ ভাষাকে তৈরি করেনি, বরং ভাষাই মানুষকে গড়ে তুলেছে। মাতৃভাষাকে ভুলে না যাওয়ার বার্তা দিয়ে তিনি স্পষ্ট করেন যে, ভাষা ছাড়া কোনও দেশের সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তি ও বিকাশ একেবারেই অসম্ভব।
আরও পড়ুন:
বাংলা সংস্কৃতির ঐতিহ্য তুলে ধরতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এবং ঋষি অরবিন্দের অবদানের কথা স্মরণ করেন। তিনি মন্তব্য করেন, ঋষি অরবিন্দকে অধ্যয়ন না করলে ভারতকে সামগ্রিকভাবে বোঝা সম্ভব নয়। বাংলা আজ ফের 'সোনার বাংলা' হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করার পাশাপাশি তিনি জানান, বর্তমানে এই রাজ্যে যা কিছু ঘটছে, কেন্দ্র তার প্রতি কড়া নজর রাখছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, ভারতীয় সংস্কৃতিতে কোনওরূপ সংকীর্ণতার স্থান নেই। বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার কারও মতাদর্শে হস্তক্ষেপ বা বাধা সৃষ্টি করতে চায় না।
বরং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে দেশের প্রকৃত সংস্কৃতি পুনরুদ্ধারের সংকল্প নেওয়া হয়েছে এবং এই শব্দের জাদুঘর সেই লক্ষ্যপূরণেই বড় ভূমিকা নেবে।আরও পড়ুন:
এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, বাংলা ভাষার মর্যাদা বৃদ্ধি এবং তাকে আরও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁকে একটি বিশেষ চিঠি পাঠিয়েছেন। আগামীকাল রাজ্য বিধানসভায় তিনি ওই চিঠির বিষয়বস্তু নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবেন বলে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন:
নবনির্মিত এই ‘শব্দলোক’ জাদুঘরের প্রাথমিক পর্যায়ে মোট ন’টি গ্যালারি দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে।
এই গ্যালারিগুলি যথাক্রমে আদি শব্দ, মাতৃভাষা, নবরস, ভাষার বিবর্তন, প্রতিটি ভাষায় মহাপুরুষদের অবদান, মৌখিক ঐতিহ্য, প্রদর্শনমূলক শিল্প, সর্বজনীন সংলাপ এবং পাবলিক লাইব্রেরির ইতিহাসকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে দেশের ২২টি স্বীকৃত ভাষার শব্দভাণ্ডার ও ধ্বনির বিবর্তন এখানে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। ডিজিটাল ডিসপ্লে, অডিও-ভিস্যুয়াল প্রদর্শনী এবং ইন্টারঅ্যাকটিভ ইনস্টলেশনের মাধ্যমে প্রাচীন ও আধুনিক উচ্চারণের তুলনামূলক আলোচনা এখানে স্থান পেয়েছে। এই জাদুঘরের অন্যতম মূল আকর্ষণ হল, কোনও একটি নির্দিষ্ট শব্দের শতাব্দীপ্রাচীন বিবর্তনের ধারাটি প্রত্যক্ষ করা। হাজার বা দু’হাজার বছর আগে একটি শব্দের উচ্চারণ ও অর্থ কেমন ছিল এবং কালের নিয়মে তা কীভাবে বদলেছে, সেই সমস্ত মূল্যবান তথ্য এখানে সংরক্ষিত রয়েছে।