পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং অনিয়ম নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর চাপ আরও বাড়ালেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধি। শনিবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের বরখাস্ত ছাড়া অন্য কোনো আপস গ্রহণযোগ্য নয়। একই সাথে তিনি কেন্দ্রকে নিশানা করে দাবি করেন, মন্ত্রীকে কেবল পদ থেকে না সরিয়ে অন্য কোনো মন্ত্রক বা দপ্তরে রদবদল করার যে জল্পনা কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় চলছে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।

টানা ২৩ দিন ধরে অনশনরত অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের ছাত্রনেতা নেহা, মণীশ ও আমিনের পাশাপাশি সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক এবং জেএনইউ-এর প্রাক্তন ছাত্র সংসদ সভাপতি এন সাই বালাজিকে সাথে নিয়ে এই সাংবাদিক সম্মেলন করেন রাহুল। সেখানে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিরোধী দলনেতা বলেন, “শিক্ষার্থীরা তিনটি অমীমাংসিত দাবি উত্থাপন করেছে।

এটি কেবল আমার কথা নয়, সমগ্র ভারতের শিক্ষার্থীদের দাবি। প্রথমত, অযোগ্য এবং দুর্নীতিগ্রস্ত শিক্ষামন্ত্রীকে অবিলম্বে বরখাস্ত করতে হবে। মোদিজির মন্ত্রিসভায় আলোচনা চলছে— আমরা আজকাল সেখান থেকেও খবর পাই— ধর্মেন্দ্র প্রধানকে শিক্ষা মন্ত্রক থেকে সরিয়ে অন্য মন্ত্রকে পাঠানোর কথা ভাবা হচ্ছে। এটি গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি দুর্নীতি এবং ভারতের শিশুদের ভবিষ্যৎ ধ্বংসের প্রতীক।
তাকে পুরোপুরি বরখাস্ত করতেই হবে।”

গত ২০ জুলাই দিল্লিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি লাঠিচার্জে আহত এক ছাত্রনেতার পায়ের আঘাতের চিহ্ন সংবাদমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন কংগ্রেস সাংসদ। আন্দোলনকারীদের ওপর নির্যাতনের তীব্র বিরোধিতা করে তিনি তিনটি মূল দাবি পেশ করেন। ধর্মেন্দ্র প্রধানকে শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে অবিলম্বে বরখাস্ত করা। ২০ জুলাইয়ের আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি বর্বতার পেছনে থাকা আয়োজক ও বাস্তবায়নকারীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা। পুরো ব্যবস্থার শীর্ষনেতা হিসেবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে দেশের শিক্ষার্থী ও তরুণ প্রজন্মের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে।