‘এক দেশ, এক ভোট’ ব্যবস্থা ২০২৯ সালের মধ্যেই কার্যকর করার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে কেন্দ্র। গোয়ায় দু’দিনের বৈঠক শেষে এমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন এ-সংক্রান্ত যৌথ সংসদীয় কমিটির (জেপিসি) চেয়ারম্যান ও বিজেপি সাংসদ পি. পি. চৌধুরী। তাঁর দাবি, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাওয়া মতামতের অধিকাংশই এই ব্যবস্থার পক্ষে।
বর্তমানে ‘এক দেশ, এক ভোট’ বিলটি যৌথ সংসদীয় কমিটির পর্যালোচনায় রয়েছে। কমিটি প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি, প্রাক্তন নির্বাচন কমিশনারসহ বিভিন্ন বিশেষজ্ঞের মতামত নিচ্ছে।

পি. পি. চৌধুরী জানান, কমিটি চেষ্টা করছে সংসদের আসন্ন বাদল অধিবেশনের আগেই তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিতে। প্রতিবেদন প্রস্তুত হলে ওই অধিবেশনেই বিলটি সংসদে তোলা হতে পারে।
চৌধুরীর মতে, একযোগে নির্বাচন চালু হলে বিপুল সরকারি ব্যয় কমানো সম্ভব হবে। তাঁর দাবি, এতে প্রায় ৭ লক্ষ কোটি টাকা পর্যন্ত প্রত্যক্ষ সাশ্রয় হতে পারে, যা দেশের উন্নয়নমূলক কাজে ব্যয় করা সম্ভব।
প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, ‘এক দেশ, এক ভোট’ ব্যবস্থা দুটি ধাপে বাস্তবায়নের কথা ভাবা হচ্ছে।
প্রথম ধাপে লোকসভা ও সব রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ১০০ দিনের মধ্যে পঞ্চায়েত ও পুরসভার নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে।
এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বিভিন্ন রাজ্যের বিধানসভার মেয়াদকে লোকসভা নির্বাচনের সময়সূচির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা। সে বিষয়ে পি. পি. চৌধুরী জানান, আইন কার্যকর হওয়ার পর যেসব রাজ্যের নির্বাচন লোকসভার নির্ধারিত সময়ের সঙ্গে মিলবে না, সেসব রাজ্যে একবারের জন্য স্বল্পমেয়াদি বিধানসভা গঠন করা হতে পারে। অর্থাৎ কোনো কোনো রাজ্যের বিধানসভার মেয়াদ এক, দুই বা তিন বছর নির্ধারণ করা হতে পারে, যাতে পরবর্তী সময়ে সব নির্বাচন একই সময়ে আয়োজন করা সম্ভব হয়।

এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে পশ্চিমবঙ্গ-সহ কয়েকটি রাজ্যের বর্তমান বিধানসভার মেয়াদও একবারের জন্য কমে যেতে পারে। উদাহরণ হিসেবে, ২০৩১ সালে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন হলে সেই বিধানসভার মেয়াদ পূর্ণ পাঁচ বছরের পরিবর্তে স্বল্পমেয়াদি হতে পারে, যাতে পরবর্তী নির্বাচন লোকসভার সঙ্গে একযোগে অনুষ্ঠিত হয়।