শেখ কুতুবউদ্দিন: কলকাতার যশোর রোডের পাশেই এয়ারপোর্টের বাউন্ডারি। আর তার কাছেই রয়েছে ঐতিহ্যবাহী বাঁকড়া এয়ারপোর্ট মসজিদ। কলকাতা বিমানবন্দরে সম্প্রসারণের কাজের জন্য এয়ারপোর্টের পাশে থাকা মসজিদটি সরানোর  পরিকল্পনা আগে থেকেই করে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। এয়ারপোর্ট মসজিদে যাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট পাশ থাকলেও শনিবার ঢুকতে দেওয়া হল না মসজিদ কমিটি সহ মুসুল্লিদের। শুক্রবার এশার নামাজও হয়েছে এই মসজিদে।

ফজরের ওয়াক্তে মুসুল্লিরা পাশ নিয়ে মসজিদে যাওয়ার সময় দেখে ৮ নম্বর এন্ট্রান্স-গেট পুরোপুরি বন্ধ। আগাম কোনও নোটিশও দেওয়া হয়নি বলে জানান মসজিদ কমিটির জেনারেল সেক্রেটারি মুহাম্মদ জমিরউদ্দিন (মুকুল)। এদিন তিনি পুবের কলমকে জানান, আমরা আগেই জানিয়ে দিয়েছিলাম যে মসজিদ কোনওভাবে হস্তান্তর করা যাবে না। 

এই মসজিদ কমিটির সভাপতি এবং রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী, জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের রাজ্য সভাপতি মাওলানা সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরি বলেন, ১৯৬২ সালে ন্যাশনাল হাইওয়ের (যশোর রোড)-এর পশ্চিম দিকে বসতিদের এয়ারপোর্টের ভিতরের এলাকা থেকে স্থানান্তর করা হয়। আর মসজিদটি থেকে যায় এয়ারপোর্টের দেওয়ালের ভিতরে।

শনিবার বিনা নোটিশে মসজিদ কমিটি কর্তৃপক্ষ ও সদস্যদের যেতে দেওয়া হয়নি। ১৩০ বছরের ঐতিহ্যবাহী এই মসজিদটিতে  বিনা নোটিশে হঠাৎ নামায বন্ধ করে দেওয়া নাগরিকরা মেনে নেবেন না বলে জানান সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরি। তিনি বলেন, কলকাতা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে বলেছিলাম, আমাদের এয়ারপোর্ট কর্তৃপক্ষ চিঠি দিয়ে সমস্যার কথা জানাক। দারুল উলম দেওবন্দ মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড, জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সঙ্গে এই মসজিদ নিয়ে এয়ারপোর্ট কর্তৃপক্ষের বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা হবে। আর আলোচনার মাধ্যমেই মসজিদ সংক্রান্ত বিষয়টি মিটিয়ে নেওয়া হবে।
 

সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরি এদিন জানান, এই নিয়ে কেউ রাস্তায় নামবেন না। আমাদের বিজেপির সঙ্গে ঝগড়া নেই। আমরা চাই, যেন এয়ারপোর্ট অথরিটি মসজিদ খুলে দেয়। আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধান করুক। কিন্তু জোর করে মসজিদের দরজা বন্ধ করা হয়েছে সিআইএসএফকে দিয়ে বল প্রয়োগ করে মসজিদের গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এটা দুঃজনক। এদিন এই বিষয়ে কলকাতা বিমানবন্দরের ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলা হলে তিনি পুবের কলমকে জানান, এই বিষয়ে এমন কিছু বলা সম্ভব নয়। যা বলার কর্পোরেট কমিটি বলবে।