পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: রাজ্যে ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর শিল্পের খরায় ইতি টানতে বড়সড় পদক্ষেপ করল প্রশাসন। হুগলির ডানকুনিতে লাক্স কোজি ইন্ডাস্ট্রিজের কারখানার সম্প্রসারণের জন্য ৬০০ কোটি টাকার বিপুল বিনিয়োগ এল বাংলায়। শনিবার ডানকুনিতে ১২ লক্ষ বর্গফুট এলাকা জুড়ে লাক্স কোজির দ্বিতীয় ইউনিটের শিলান্যাস করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন গোমাতার সেবার মাধ্যমে এই অনুষ্ঠানের সূচনা করেন তিনি।
আরও পড়ুন:
মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়, স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়, পরিবহণ মন্ত্রী অর্জুন সিং এবং বিজেপি-র রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।
প্রদীপ প্রজ্জ্বলন এবং মন্ত্রীদের উত্তরীয় পরিয়ে শিলান্যাস পর্বের শুভ সূচনা করেন লাক্স কোজি ইন্ডাস্ট্রিজের প্রতিষ্ঠাতা তথা চেয়ারম্যান অশোক টোডি। এই বিনিয়োগের বিষয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে তিনি জানান, বর্তমান সরকারের আমলে রাজ্যে একটি ইতিবাচক ব্যবসায়িক পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যার ফলে বহু শিল্পপতি পুনরায় বাংলায় বিনিয়োগ করতে চাইছেন। বিজেপি সরকারের হাত ধরে তাঁর তিন প্রজন্মের স্বপ্নপূরণ হয়েছে জানিয়ে তিনি বাংলার শিল্প-ভবিষ্যৎ নিয়ে শতভাগ আশাবাদী বলে মন্তব্য করেন।আরও পড়ুন:
রাজ্যের শিল্পায়নের নয়া রূপরেখা তুলে ধরে শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দেন। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে যে সমস্ত শিল্পপতিরা বাংলা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন, প্রয়োজনে তাঁদের হাতে-পায়ে ধরে রাজ্যে ফিরিয়ে আনা হবে।
মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে শিল্পমন্ত্রী স্পষ্ট জানান যে, রাজ্যের পরিযায়ী শ্রমিকদের আর কাজের খোঁজে ভিনরাজ্যে যেতে হবে না। অন্যদিকে, বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য জানান, এমএসএমই খাতের উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে সরকার বদ্ধপরিকর। দীর্ঘ ৫০ বছরের বাম ও তৃণমূল শাসনকালের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী এবং শিল্পমন্ত্রীর হাত ধরেই এবার রাজ্যে বন্ধ কারখানার দরজা খুলবে।আরও পড়ুন:
শিল্পের এই নয়া উদ্যোগ এবং তার অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, লাক্স কোজির এই ৬০০ কোটির বিনিয়োগের ফলে প্রত্যক্ষভাবে ৯ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে এবং রাজ্যের কোষাগারে বার্ষিক ১ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আসবে।
বাংলার প্রায় ১ কোটি পরিযায়ী শ্রমিক রাজ্যে ফেরার আশায় দিন গুনছেন বলে উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, মানুষের ভরসা অনেকটাই বেড়েছে। পূর্বতন বাম ও তৃণমূল সরকারের আমলে রাজ্যের ঋণের বোঝা ২ লক্ষ কোটি থেকে বেড়ে ৮ লক্ষ কোটিতে পৌঁছনোর সমালোচনা করে তিনি রাজস্ব বৃদ্ধির ওপর জোর দেন। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হলেই একটি সঠিক শিল্পবান্ধব পরিবেশ গড়ে ওঠে। রাজ্যে সেই পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে।আরও পড়ুন:
আইনশৃঙ্খলা থেকে শুরু করে বেকারত্ব দূরীকরণ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তনের আশ্বাস দিয়ে ‘ডবল ইঞ্জিন’ জমানায় রাজ্যে ‘ত্রিশক্তি’ কর্মসংস্থানেরও প্রতিশ্রুতি দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি প্রত্যয়ের সঙ্গে জানান, আগামী দিনে বাংলা শিল্প ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ভারতসেরা হবে এবং শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্বপ্নপূরণ হবে।