পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: অযোধ্যার রাম মন্দিরের অনুদান চুরি নিয়ে সরব হল কংগ্রেস। শনিবার কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা তথা সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল এই ঘটনাকে "ভারতের ইতিহাসে কোনো দেবালয়ে দেখা সবচেয়ে বড় লুট" বলে অভিহিত করেছেন। একই সঙ্গে এই স্পর্শকাতর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর রহস্যজনক নীরবতা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। কেরলের ত্রিশূরের বিখ্যাত গুরুভায়ুর মন্দিরের বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বেণুগোপাল স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আগামী সংসদ অধিবেশনে এই দুর্নীতি নিয়ে সরকারের কাছ থেকে জবাবদিহি চাইবে কংগ্রেস।
আরও পড়ুন:
কংগ্রেস সাংসদ কে সি বেণুগোপাল অভিযোগ করেন, এই কেলেঙ্কারির শিকড় অনেক গভীরে এবং রাজ্য পুলিশের তদন্তে আসল সত্য আড়াল করার চেষ্টা হচ্ছে। তিনি বলেন, "আমরা দেশজুড়ে এই ইস্যুটি তুলছি এবং ভবিষ্যতেও তুলব। এই লুট দেশের কোটি কোটি সনাতন ধর্মাবলম্বী ভক্তের বিশ্বাসে আঘাত করেছে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, দেশের প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই নিয়ে সম্পূর্ণ নীরব।
ঘটনার তদন্তে কেবল উত্তরপ্রদেশ পুলিশের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠন করা হয়েছে। আমাদের স্পষ্ট অভিযোগ, এই সিট গঠনের আসল উদ্দেশ্য হলো মূল অপরাধীদের আড়াল করা এবং বাঁচানো।" বেণুগোপাল দাবি করেন, উত্তরপ্রদেশ পুলিশের ওপর ভরসা না রেখে এই দুর্নীতির তদন্ত সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে হওয়া উচিত। একমাত্র সর্বোচ্চ আদালতের নজরদারিতে তদন্ত হলেই এই কোটি কোটি টাকার তছরুপের পেছনে থাকা আসল মাথাদের মুখোশ টেনে খোলা সম্ভব।আরও পড়ুন:
কংগ্রেস নেতার দাবি, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ-সহ সঙ্ঘ পরিবারের বিভিন্ন সহযোগী সংগঠন গত দুই দশক ধরে রাম মন্দিরের নাম করে ভক্তদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও সোনাদানা সংগ্রহ করেছিল। সেই সমস্ত অনুদান ও সোনা কৌশলে গায়েব বা ‘সাইফন’ করা হয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, এই বিপুল পরিমাণ অর্থের অপব্যবহার রাম মন্দির ট্রাস্টের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের জ্ঞাতসারেই ঘটেছে।
আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য, এই ট্রাস্টের কর্মকর্তাদের সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর তত্ত্বাবধানেই নিযুক্ত করা হয়েছিল বলে দাবি করেন বেণুগোপাল। বিজেপি ও আরএসএস-কে তীব্র আক্রমণ শেনে কংগ্রেস নেতা বলেন, "এঁরা কেবল হিন্দুদের নামে লুটপাট চালাতে এবং ভোটের স্বার্থে সাধারণ মানুষকে বিভক্ত করতে ভালোবাসে। এটি কেবল সাধারণ কোনো আর্থিক কেলেঙ্কারি বা লুট নয়, বরং কোটি কোটি ভক্তের ধর্মীয় আবেগের ওপর এক নির্মম আঘাত।"