পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: তেলঙ্গানার রঙ্গারেড্ডি জেলায় এক চরম নৃশংস ও রোমহর্ষক গণহত্যাকাণ্ডের ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। শনিবার (১১ জুলাই) ভোরের আলো ফোটার আগে শাহবাদ মণ্ডলের দৈবলগুড়া গ্রামে একই রাতে এক মহিলা ও তাঁর দুই শিশু সন্তানসহ মোট ছয়জনকে কুপিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত যুবকের নাম রাজকুমার (৩৫)। পুলিশ প্রাথমিক তদন্তের পর জানিয়েছে, নিজের স্ত্রী ও দুই সন্তানকে খুন করার পর, ওই যুবক তাঁর বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা করা এক নাবালিকা এবং তার মা ও ঠাকুমাকেও নির্মমভাবে খুন করে।

এই রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের পর গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত রাজকুমার পলাতক। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই নৃশংস ঘটনায় নিহতরা হলেন— পার্বতী সরিতা (৩০) — অভিযুক্ত রাজকুমারের স্ত্রী। অভিযুক্তের পুত্র ও কন্যা পরীক্ষিত (৩) ও দৈবিক্ষিত (২), ১৭ বছর বয়সী এক নাবালিকা, নাবালিকার মা চিত্রাল লক্ষ্মী ও ঠাকুমা চিত্রাল রুক্কাম্মা।

পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার ভোরের দিকে এই ছ’জনকে একে একে খুন করার পর অভিযুক্ত রাজকুমার নিজেই তার বাবা-মাকে ফোন করে পুরো বিষয়টি জানায়। সে বলে যে, সে সবাইকে শেষ করে দিয়েছে এবং এবার নিজেও নিজের জীবন শেষ করে দিতে চলেছে।

এই ফোন পাওয়ার পরেই পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। 

তদন্তকারী আধিকারিকরা জানান, কিছুদিন আগে ওই ১৭ বছর বয়সী নাবালিকাটিকে উত্যক্ত করা এবং যৌন হেনস্থা করার অভিযোগে রাজকুমারের বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছিল। সেই মামলায় পুলিশ তাকে গ্রেফতার করলেও সম্প্রতি ২০,০০০ টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে জামিনে মুক্তি পেয়েছিল রাজকুমার। জেল থেকে বেরোনোর পর থেকেই সে প্রতিশোধ নেওয়ার ছক কষছিল। পকসো মামলার জেরেই চরম আক্রোশ থেকে এই ছয়টি খুন করেছে সে।