পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা এবং তৎপরবর্তী গণপিটুনির জেরে বারুইপুরে এখনও থমথমে পরিস্থিতি। এর মাঝেই শনিবার দ্বিতীয়বার বারুইপুর সফরে গেলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন বেলা সাড়ে এগারোটা নাগাদ তিনি সেখানে পৌঁছন। প্রথমেই তিনি নিহত নাবালিকার বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে প্রায় দশ মিনিট কথা বলেন। এরপর মুখ্যমন্ত্রী সোজা চলে যান উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে নিহত যুবক ইন্দ্রজিতের বাড়িতে।

সেখানে তিনি নিহতের দাদা বাপির হাতে একটি সরকারি চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেন। একইসঙ্গে আগের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে এদিন সূর্যপুরে একটি নতুন পুলিশ ফাঁড়িরও উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। 

জানা গিয়েছে, এই নতুন ফাঁড়িতে দু'জন এসআই, চারজন এএসআই এবং চারজন মহিলা পুলিশকর্মী-সহ মোট কুড়িজন নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন।
উল্লেখ্য, গত ৪ জুলাই বারুইপুরের ওই নাবালিকা নিখোঁজ হয়ে যায় এবং পরদিন ৫ জুলাই রবিবার সকালে স্থানীয় একটি পুকুর থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার হয়। তাকে গণধর্ষণের পর খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।

পুলিশ ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল পুলিশের এনকাউন্টারে মারা গিয়েছে। অন্যদিকে, নাবালিকার মৃতদেহ উদ্ধারের পর সূর্যপুর এলাকায় ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং সেই উত্তেজনার বশেই জনতা সন্দেহের বশে এক যুবককে পিটিয়ে মারে।

এর আগে গত মঙ্গলবার বারুইপুরে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়েছিলেন যে, গণপিটুনিতে নিহত ওই যুবক সম্পূর্ণ নির্দোষ ছিলেন। তিনি দোষীদের কঠোর শাস্তির আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি এই গণপিটুনির পিছনে কোনও সাম্প্রদায়িক উসকানি থাকতে পারে বলেও সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন। মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পরেই পুলিশ উসকানিমূলক কাজে যুক্ত থাকার অভিযোগে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করে। গণপিটুনি ও হিংসা ছড়ানোর অভিযোগে পুলিশ এখনও পর্যন্ত মোট ৩৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।