ইরানের জাতীয় অবকাঠামোর ওপর যেকোনো ধরনের হামলা চালানো হলে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থার প্রধান মোহাম্মদ বাকের জোলঘাদর।

শুক্রবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার জবাব অবশ্যই দেওয়া হবে এবং এর জন্য দায়ীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। তাঁর ভাষায়, দেশের নিরাপত্তা ও অবকাঠামোর বিরুদ্ধে যেকোনো আগ্রাসনের উপযুক্ত প্রতিক্রিয়া জানাতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা আবারও বেড়েছে।

এর আগে গত ১৭ জুন উভয় পক্ষ একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছিল, যার উদ্দেশ্য ছিল যুদ্ধবিরতিকে আনুষ্ঠানিক রূপ দেওয়া এবং স্থায়ী সমাধানের পথ সুগম করা। তবে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনা সেই প্রক্রিয়াকে নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে।
ইরানের দাবি, বুধবার গভীর রাত থেকে বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় শুধু সামরিক স্থাপনাই নয়, বিভিন্ন বেসামরিক অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তেহরান থেকে মাশহাদ পর্যন্ত সেতু ও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাও হামলার শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে দেশটি।
একই সময়ে মাশহাদে প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফন সম্পন্ন হয়।

ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক হামলায় এখন পর্যন্ত ১৭ জন নিহত হয়েছেন।
এদিকে আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক উদ্যোগও অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, কাতার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যোগাযোগ বজায় রেখে উত্তেজনা কমানোর লক্ষ্যে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হলেও, সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়া ঠেকাতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।