ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে স্বস্তির বার্তা নিয়ে আসা দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বৃষ্টি এখন বহু রাজ্যের জন্য দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মহারাষ্ট্র, গুজরাট, হিমাচল প্রদেশ, রাজস্থান, দিল্লি-এনসিআর এবং কেরল-সহ একাধিক এলাকায় টানা ভারী বৃষ্টিতে বন্যা, জলাবদ্ধতা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটছে। এর ফলে স্বাভাবিক জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। রেল, সড়ক ও বিমান পরিষেবাতেও প্রভাব পড়েছে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত রাজ্যগুলির মধ্যে রয়েছে মহারাষ্ট্র ও গুজরাট। মুম্বই ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে প্রবল বৃষ্টির কারণে লোকাল ট্রেন পরিষেবা বিলম্বিত হয়েছে।

গুজরাটগামী বহু দূরপাল্লার ট্রেন বাতিল করা হয়েছে, আবার বেশ কয়েকটি ট্রেনের রুট ও সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। ভোর ঘাট এলাকায় ভূমিধসের জেরে মুম্বই-পুণে রেলপথেও স্বাভাবিক পরিষেবা এখনও পুরোপুরি ফিরতে পারেনি।

গুজরাটের সুরাটে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। লাগাতার বৃষ্টিতে শহরের বহু এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। প্রশাসন ইতিমধ্যেই হাজার হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে গেছে। অন্যদিকে মুম্বইয়ের পানীয় জলের প্রধান উৎস তুলসি ও বিহার হ্রদ উপচে পড়তে শুরু করেছে।

প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও মানবিকতার এক অনন্য নজির দেখা গেছে মহারাষ্ট্রের পালঘর জেলায়। বন্যায় রাস্তা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় এক গর্ভবতী মহিলাকে হাসপাতালে পৌঁছে দিতে গ্রামের বাসিন্দারা বাড়ির দরজাকেই অস্থায়ী স্ট্রেচার হিসেবে ব্যবহার করেন। জলমগ্ন রাস্তা পেরিয়ে তাকে নিরাপদে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

হিমাচল প্রদেশেও ভারী বৃষ্টির জেরে হড়পা বানের ঘটনা ঘটেছে। একাধিক সংযোগকারী রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শিমলা জেলার একটি অস্থায়ী সেতু ভেঙে যাওয়ায় কয়েকটি গ্রামের যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

কেরলের ওয়ানাড়ে ভূমিধসের পর এখনও নিখোঁজ শ্রমিকদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে উদ্ধারকারী দল। রাজস্থানের বহু জেলায় প্রবল বৃষ্টিতে রাস্তা ও বাজার এলাকা জলের তলায় চলে গেছে। আবহাওয়া দফতর আগামী কয়েক দিন আরও বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে।মহারাষ্ট্রের পুণের পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড় এলাকায় বৃষ্টির জেরে জমে থাকা একটি বিশাল আবর্জনার স্তূপ পাশের একটি ভবনের উপর ধসে পড়ে। এতে ভবনটির একাংশ ভেঙে যায়। ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ করছে উদ্ধারকারী দল।