পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: বৃহস্পতিবার রাতে হরিয়ানার গুরুগ্রামে পুলিশ ও দুষ্কৃতীদের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। দু’পক্ষের মধ্যে প্রায় ৬০ রাউন্ড গুলি বিনিময় হয়। এই তীব্র এনকাউন্টারে চার অপরাধী নিহত হয়েছে এবং তিন পুলিশ কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ গুরুগ্রামের সুশান্ত লোক ফেজ-২ এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। ক্রাইম ব্রাঞ্চের কাছে আগে থেকেই খবর ছিল যে, একটি সন্দেহভাজন স্করপিও এসইউভি গাড়িতে করে কিছু সশস্ত্র অপরাধী ওই এলাকায় জড়ো হয়েছে।

এই গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ক্রাইম ব্রাঞ্চের একাধিক টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।

এনডিটিভি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ক্রাইম ব্রাঞ্চের ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ জানান, পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে ব্যারিকেড বা অবরোধ তৈরি করার আগেই সশস্ত্র দুষ্কৃতীরা এক ব্যবসায়ীর বাড়ি লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে। জানা গেছে, ওই ব্যবসায়ী বেশ কিছুদিন ধরে বিদেশ থেকে পরিচালিত একটি গ্যাংস্টারের কাছ থেকে ক্রমাগত তোলাবাজির হুমকি পাচ্ছিলেন। ফলে তিনি আগে থেকেই অপরাধীদের নিশানা ছিলেন। পুলিশ দল দ্রুত ওই সন্দেহভাজনদের চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলে এবং তাদের বারবার আত্মসমর্পণ করার নির্দেশ দেয়।

কিন্তু অপরাধীরা আত্মসমর্পণ না করে পালানোর উদ্দেশ্যে পুলিশকে লক্ষ্য করে তীব্র গুলি বর্ষণ শুরু করে। আত্মরক্ষার্থে এবং অপরাধীদের দমনে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়।

গুলির লড়াইয়ে বিদেশ-বিভুঁই থেকে পরিচালিত ‘দীপক নান্দাল গ্যাং’-এর পাঁচজন শুটারই গুলিবিদ্ধ হয়। তাদের উদ্ধার করে একটি বেসরকারি সুপার-স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা চারজনকে মৃত ঘোষণা করেন। পঞ্চম অভিযুক্তের অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং বর্তমানে হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছে। অন্যদিকে, দুষ্কৃতীদের ছোড়া গুলিতে গুরুগ্রাম পুলিশের তিন কর্মী জখম হয়েছেন। তাদেরও দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে চিকিৎসকরা তাদের শারীরিক পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছেন।