পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রায় ১৪ ঘণ্টা আটকে থাকার পর জীবনের শেষ আশায় আত্মীয়কে ফোন করেছিলেন বিহারের বাসিন্দা মন্নু কুমার। সেই ফোনের সূত্র ধরেই উদ্ধারকারী দল তাঁর অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম হলেও শেষ পর্যন্ত প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হল না। তারাতলার নির্মীয়মাণ গুদামের ছাদ ভেঙে পড়ার ঘটনায় আরও এক শ্রমিকের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবারে। বৃহস্পতিবার রাত প্রায় ১১ টা নাগাদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
আরও পড়ুন:
মন্নু কুমারের বাড়ি বিহারের মুঙ্গের জেলায়।
পরিবারের ৬ জন সদস্য জীবিকার সন্ধানে কলকাতায় এসে ওই নির্মীয়মাণ ভবনে শ্রমিকের কাজ করছিলেন। বুধবার দুপুরে আচমকাই ভবনটি ভেঙে পড়লে সবাই ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন। ঘটনাস্থল থেকেই পরিবারের এক সদস্যের মৃত্যু হয় এবং আরও কয়েকজনকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে মন্নু কুমার ও শিরচাঁদ কুমারের কোনও খোঁজ মিলছিল না।আরও পড়ুন:
বুধবার গভীর রাতে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকেই আত্মীয় সন্তোষের মোবাইলে ফোন করেন মন্নু।
তিনি শুধু নিজের প্রাণ বাঁচানোর আকুতি জানাতে পেরেছিলেন। অবস্থান জানাতে বলা হলেও তিনি আর তা পাঠাতে পারেননি। এরপরই বিষয়টি উদ্ধারকারী দলের নজরে আনা হয়। পুলিশ মোবাইল ফোনের অবস্থান শনাক্ত করে উদ্ধার অভিযান আরও জোরদার করে। বৃহস্পতিবার সকাল ৬ টার সময় ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে মন্নুকে উদ্ধার করা হয়। দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা শুরু হলেও দীর্ঘ সময় চাপা পড়ে থাকার কারণে তাঁর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক ছিল। চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টা সত্ত্বেও রাতে তাঁর মৃত্যু হয়।আরও পড়ুন:
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, একই দুর্ঘটনায় নিহত পরিবারের এক সদস্যের মরদেহ ইতিমধ্যেই বিহারের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। পরিবারের আরও তিন সদস্য এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ময়নাতদন্তের পর মন্নুর মরদেহও পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে। এদিকে এখনও এক শ্রমিকের কোনও সন্ধান মেলেনি বলে উদ্ধারকারী সূত্রে জানা গেছে।