পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল নৌপথ হল হরমুজ প্রণালী। এবার হরমুজ প্রণালী নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিল ইরান। অনুমতি ছাড়া যেকোনো ধরনের জাহাজ চলাচল করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে কড়া বার্তা দিয়েছে ইরানের প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী রেভল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি)।

বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্র পথ দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

সম্প্রতি যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনা শুরু হলেও হরমুজ প্রণালীর ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণ এবং এর ওপর ইরানের কর্তৃত্ব বজায় রাখার বিষয়টি দুই পক্ষের আলোচনার প্রধান একটি জটিল ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইরান জানিয়েছে, তারা এই জলপথ ব্যবহারের জন্য টোল নয়, বরং সামুদ্রিক পরিষেবা বাবদ নির্দিষ্ট ফি চালুর পরিকল্পনা করছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, হরমুজ একটি আন্তর্জাতিক জলপথ হওয়ায় সেখানে কোনো ধরনের মাশুল আরোপ করা উচিত নয়।

ইসলামি রেভলিউশনারি গার্ড বিবৃতিতে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে যাতায়াতের জন্য ইরান যে পথ নির্ধারণ করেছে, সেটিই একমাত্র বৈধ নৌপথ।

নির্ধারিত নিয়মের বাইরে কোনো জাহাজ চলাচল করলে তা শুধু অগ্রহণযোগ্যই নয়, নিরাপত্তার জন্যও বড় ঝুঁকি তৈরি করবে। একই সঙ্গে তারা অভিযোগ করেছে যে, কিছু পক্ষ জলপথে নতুন রুট চালুর ঘোষণা করেছে। যদিও কারা এই উদ্যোগ নিয়েছে বা এর বিস্তারিত কী, সে বিষয়ে ইরান কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। তবে আন্তর্জাতিক মহল সূত্রে জানা যাচ্ছে, ইরানের এই কড়া হুঁশিয়ারি এমন এক সময়ে এলো, যার কিছু সময় আগেই লাইবেরিয়ার একটি তেলের ট্যাংকার ওমানের উপকূলবর্তী একটি নতুন রুট ব্যবহার করে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে।

হরমুজ প্রণালী ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মাঝখানে অবস্থিত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক করিডোর। বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়েই পরিবহণ করা হয়। সবচেয়ে সরু অংশে এর প্রস্থ প্রায় ত্রিশ কিলোমিটার। গত সপ্তাহে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সই হওয়া যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর চুক্তি অনুযায়ী, আগামী ৬০ দিন বাণিজ্যিক জাহাজগুলো বিনা মূল্যে এই প্রণালী ব্যবহার করতে পারবে। তবে স্থায়ী শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হলে ৬০ দিন পর এই নৌপথের পরিস্থিতি কী দাঁড়াবে, তা নিয়ে এখনও চরম অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। এদিকে উপসাগরীয় দেশগুলো সফরের সময় মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিও স্পষ্ট জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী ব্যবহারের জন্য কোনো ধরনের টোল বা মাশুল আরোপের বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র মেনে নেবে না।