অযোধ্যার রামমন্দিরে অনুদানের টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী চুরির ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে দেশজুড়ে। মন্দিরের অনুদান আত্মসাতের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে আটজনকে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, ধৃতদের সকলেই মন্দিরের অনুদান গণনা ও সংরক্ষণের কাজে যুক্ত ছিলেন। এমনকি অনুদান বাক্সের চাবির দায়িত্বে থাকা টিন্নু যাদবও পুলিশের জালে।
বিশেষ তদন্তকারী দলের (সিট) রিপোর্ট অনুযায়ী, রামমন্দিরে নগদ অনুদানের পরিমাণ ৩,৫০০ কোটিরও বেশি।

পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ সোনা-রুপোর গয়না ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রীও ভক্তরা দান করেছেন। তবে তদন্তে উঠে এসেছে, এই বিপুল সম্পদের একটি অংশের কোনও সঠিক হিসাব মিলছে না। এমনকি দান হিসেবে পাওয়া রুপোর তৈরি কিছু মূল্যবান সামগ্রীও নিখোঁজ বলে অভিযোগ।
তদন্তে জানা গিয়েছে, মন্দিরের প্রাক্তন গাড়িচালক টিন্নু যাদবের কাছেই ছিল দানবাক্সের চাবি। মন্দিরের বিভিন্ন কাজে তাঁর যথেষ্ট প্রভাব ছিল বলেও অভিযোগ।
যদিও টিন্নু যাদব দাবি করেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে।

এছাড়াও গ্রেপ্তার হয়েছেন অনুদান গণনার সঙ্গে যুক্ত রমাশংকর মিশ্র ও তাঁর ছেলে অনুকল্প মিশ্র। রমাশংকরের জামাই লবকুশ মিশ্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ, চুরি হওয়া অর্থের ভাগ-বাঁটোয়ারার দায়িত্বে ছিলেন তিনি। তাঁর বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা উদ্ধার হয়েছে বলে দাবি তদন্তকারীদের।
ধৃতদের তালিকায় রয়েছেন মন্দিরের কর্মী অবিনাশ শুক্লাও।

তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রায় পাঁচ লক্ষ টাকা জমার হদিস মিলেছে। পাশাপাশি অনুদান গণনার কাজে যুক্ত মণীশ যাদব, প্রাক্তন ব্যাঙ্ককর্মী সুভাষ শ্রীবাস্তব এবং জাল রসিদ তৈরির অভিযোগে করুণেশ পাণ্ডেকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এই ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। তিনি বলেছেন, সনাতন মূল্যবোধ ও ভক্তদের বিশ্বাস নিয়ে যারা ছিনিমিনি খেলেছে, তাদের কোনওভাবেই রেহাই দেওয়া হবে না। সিটের রিপোর্টের ভিত্তিতে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী।