যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলার বিরুদ্ধে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিরোধকে দেশের ইতিহাসের অন্যতম বীরত্বপূর্ণ অধ্যায় বলে উল্লেখ করেছেন ইরানের রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান। তাঁর দাবি, শত্রুপক্ষ ভেবেছিল মাত্র তিন দিনের মধ্যেই ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের পতন ঘটিয়ে নিজেদের অনুগত সরকার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে। কিন্তু ইরানের সেনাবাহিনী সেই পরিকল্পনা সম্পূর্ণ ভেস্তে দিয়েছে।
বুধবার এক রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পেজেশকিয়ান বলেন, “আমাদের শত্রুরা বিশ্বাস করেছিল খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ইরানকে পরাজিত করা যাবে। কিন্তু দেশের সশস্ত্র বাহিনী এমন এক প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে, যা তারা কল্পনাও করেনি।
ইরানের রাষ্ট্রপতি জানান, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় মর্যাদা রক্ষায় সেনাবাহিনী ও সাধারণ মানুষ একসঙ্গে লড়াই করেছে। এই ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের ফলেই আন্তর্জাতিক রাজনীতির সমীকরণ বদলাতে বাধ্য হয়েছে পশ্চিমা শক্তিগুলো।
পেজেশকিয়ান বলেন, “এই যুদ্ধের পর ইরান শুধু নিজেকে রক্ষা করেনি, বরং বিশ্বের বুকে একটি শক্তিশালী ও মর্যাদাপূর্ণ রাষ্ট্র হিসেবেও নিজের অবস্থান আরও দৃঢ় করেছে।”
তিনি আরও দাবি করেন, সংঘাতের শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের কাছে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের দাবি জানিয়েছিলেন। কিন্তু ইরানের পাল্টা জবাব এবং দৃঢ় প্রতিরোধের মুখে সেই অবস্থান পরিবর্তন করতে বাধ্য হয় ওয়াশিংটন।
রাষ্ট্রপতির কথায়, সামরিক শক্তি দিয়ে ইরানকে দমিয়ে রাখার পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ার পর এখন কূটনৈতিক আলোচনার পথই বেছে নিতে হচ্ছে বিরোধী পক্ষকে। দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও সংঘাতের অবসানে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।
পেজেশকিয়ান জোর দিয়ে বলেন, “ইরান কোনো হুমকি বা চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না। আমাদের জাতি প্রমাণ করেছে, দেশের স্বাধীনতা ও মর্যাদা রক্ষার প্রশ্নে আমরা ঐক্যবদ্ধ এবং যে কোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত।”
রাষ্ট্রপতির এই মন্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং ইরানের সম্পর্ক নতুন কূটনৈতিক মোড়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, পেজেশকিয়ানের বক্তব্যে যেমন আত্মবিশ্বাসের বার্তা রয়েছে, তেমনই রয়েছে বিশ্বমঞ্চে ইরানের শক্ত অবস্থানের দাবি পুনর্ব্যক্ত করার প্রচেষ্টা।