পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: "পাপা আমাকে বাঁচাও!"—দক্ষিণ দিল্লির ফুটপাত থেকে গভীর রাতে অপহরণ হওয়ার সময় এটিই ছিল ১০ বছরের এক অসহায় শিশুর শেষ আকুল আর্তনাদ। মেয়ের চিৎকার শুনে ঘুম ভেঙে ছুটে গিয়েছিলেন বাবা। একটি সাদা রঙের গাড়ির পেছনে প্রাণপণে দৌড়েছিলেন, কিন্তু ততক্ষণে অন্ধকার চিরে চম্পট দিয়েছে অপরাধী। মাত্র চার ঘণ্টার মধ্যে সেই পৈশাচিক ঘটনার নৃশংস সমাপ্তি ঘটে। ঘুমন্ত নাবালিকাকে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ ও শ্বাসরোধ করে খুন করল এক মদ্যপ অ্যাপ-ক্যাব চালক। বর্বর এই ঘটনাটি নাড়িয়ে দিয়েছে দেশের রাজধানীকে। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত চালকের নাম বাবলু।

সে বিহারের বাসিন্দা। ধড়পাকড়ের পর মঙ্গলবার তাকে যখন ক্রাইম সিনের পুনর্নির্মাণের জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তখন সে পুলিশের হেফাজত থেকে পালানোর চেষ্টা করে। সেই সময় পুলিশের সঙ্গে এনকাউন্টারে পায়ে গুলি লাগে বাবলুর। বর্তমানে সে পুলিশি পাহারায় চিকিৎসাধীন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার রাতে দক্ষিণ দিল্লির একটি ফুটপাতে মা-বাবা এবং তিন ভাই-বোনের সঙ্গে ঘুমাচ্ছিল ওই ১০ বছরের শিশুটি। ভোর ৪টে নাগাদ একটি সাদা রঙের হ্যাচব্যাক গাড়ি নিয়ে সেখানে এসে দাঁড়ায় বাবলু। সে তীব্র মদ্যপ অবস্থায় ছিল এবং একটি রাইডের জন্য অপেক্ষা করছিল। ফুটপাতে শিশুটিকে ঘুমন্ত অবস্থায় দেখে তার মাথায় কুমতলব ঘোরে।

প্রায় এক ঘণ্টা সেখানে ওত পেতে বসে থাকার পর, ভোর ৫টা নাগাদ সে শিশুটিকে পাঁজাকোলা করে গাড়িতে তুলে নেয়। মেয়ের কান্নার আওয়াজ পেয়ে বাবার ঘুম ভেঙে যায়। তিনি গাড়িটির পেছনে ধাওয়া করলেও নাগাল পাননি। এরপরই তিনি দ্রুত পুলিশ কন্ট্রোল রুমে ফোন করে বিষয়টি জানান।

খবর পাওয়ার পরপরই দিল্লি পুলিশ একটি বিশাল তল্লাশি অভিযান শুরু করে। এলাকার সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ স্ক্যান করা শুরু হয়। একই সঙ্গে অন্য রুটের সিসিটিভি খতিয়ে দেখে গাড়িটির নম্বর শনাক্ত করা হয়। এরপর গাড়ির জিপিএস এবং অভিযুক্তের মোবাইল টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করে পশ্চিম দিল্লির বিকাসপুরী এলাকা থেকে গাড়িটিকে ঘিরে ফেলে পুলিশ।

ঘটনার মাত্র ৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার হয় বাবলু। পুলিশি জেরার মুখে বাবলু তার অপরাধ কবুল করেছে। সে জানায়, ফুটপাত থেকে শিশুটিকে অপহরণ করার পর সে তাকে ২০ কিলোমিটার দূরে গুরুগ্রাম-ফরিদাবাদ রোডের একটি নির্জন এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে গাড়ি পার্ক করে মেয়েটিকে জঙ্গলের ভেতরে টেনে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে সে। এরপর নিজের গলার স্কার্ফ দিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে খুন করে দেহটি জঙ্গলেই ফেলে রেখে চলে আসে। 

তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, বাবলুর বিরুদ্ধে বিহারে ইতিমধ্যেই মারামারি ও হামলার ৫টি অপরাধমূলক মামলা নথিভুক্ত রয়েছে। বিহারে তার স্ত্রী এবং সন্তানও রয়েছে। এই ঘটনার পর দিল্লির অ্যাপ-ভিত্তিক ট্যাক্সি পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলির নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেছে। একজন অপরাধমূলক ব্যাকগ্রাউন্ড থাকা ব্যক্তিকে কীভাবে চালক হিসেবে নিয়োগ করা হলো এবং তার ব্যাকগ্রাউন্ড ভেরিফিকেশন কেন করা হয়নি—এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ক্যাব সংস্থাকে কড়া নোটিশ পাঠাতে চলেছে দিল্লি পুলিশ।