বিশ্বের প্রথম ‘ট্রিলিয়নিয়ার’ হিসেবে ইতিহাস গড়ার মাত্র ১২ দিনের মধ্যেই সেই খেতাব হারালেন মার্কিন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক। স্পেসএক্স এবং টেসলার শেয়ারের বড় ধরনের দরপতনের ফলে তার ব্যক্তিগত সম্পদের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ফলে বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হিসেবে পাওয়া সাম্প্রতিক স্বীকৃতি ধরে রাখা সম্ভব হয়নি তার।
আরও পড়ুন:
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টেলিগ্রাফ’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়াল স্ট্রিটে প্রযুক্তি খাতের শেয়ারবাজারে ব্যাপক পতনের জেরে মাস্কের ব্যক্তিগত সম্পদ থেকে প্রায় ৫০০ বিলিয়ন ডলার উধাও হয়ে গেছে।
এর ফলে তার সম্পদের পরিমাণ এক ট্রিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে এসেছে।আরও পড়ুন:
গত ১২ জুন রকেট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স শেয়ারবাজারে (আইপিও) আসার পর ইলন মাস্ক বিশ্বের প্রথম ব্যক্তি হিসেবে ট্রিলিয়নিয়ার হওয়ার নজির গড়েন। সে সময় তার মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল ১.১ ট্রিলিয়ন ডলার। পরে ১৬ জুন লেনদেন চলাকালীন স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়ে গেলে মাস্কের সম্পদ রেকর্ড ১.৪৫ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছে যায়।
আরও পড়ুন:
কিন্তু সেই উত্থান বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম ৩০ থেকে ৩১ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। ফোর্বসের হিসাব অনুযায়ী, টানা তিন দিনের এই পতনে কোম্পানিটির বাজারমূল্য প্রায় ৯২৮ বিলিয়ন ডলার কমে ২.৯ ট্রিলিয়ন ডলার থেকে সামান্য বেশি ২ ট্রিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে।
আরও পড়ুন:
অন্যদিকে, মাস্কের বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলার শেয়ারেও বড় ধাক্কা লাগে।
একদিনেই টেসলার শেয়ারের দাম ৫.৮ শতাংশ কমে যায়, যার ফলে কোম্পানিটির বাজারমূল্য প্রায় ৮৯ বিলিয়ন ডলার হ্রাস পায়।আরও পড়ুন:
ব্লুমবার্গ বিলিয়নিয়ার্স ইনডেক্সের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ইলন মাস্কের মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৫৭.১ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে ফোর্বসের হিসাব বলছে, মঙ্গলবারের লেনদেন শেষে তার সম্পদের পরিমাণ ছিল প্রায় ৯৬২ বিলিয়ন ডলার।
আরও পড়ুন:
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের শেয়ারগুলোর অতিরিক্ত মূল্যায়ন নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ এবং প্রযুক্তি খাতজুড়ে ব্যাপক বিক্রির চাপই এই দরপতনের প্রধান কারণ। মাইক্রন, এনভিডিয়া-সহ একাধিক প্রযুক্তি কোম্পানির শেয়ারের দামও সাম্প্রতিক সময়ে কমেছে, যার প্রভাব পড়েছে গোটা ওয়াল স্ট্রিটে।
আরও পড়ুন:
মাত্র ১২ দিনের ব্যবধানে বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার থেকে আবার বিলিয়নিয়ারের কাতারে ফিরে আসা ইলন মাস্কের জন্য এটি যেমন বড় ধাক্কা, তেমনি প্রযুক্তি খাতের অস্থিরতারও একটি বড় উদাহরণ বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।