তারাতলায় গুদাম ধসে পড়ার ঘটনায় এক নজিরবিহীন সমন্বয়ের মাধ্যমে উদ্ধারকাজ চালিয়ে বহু মানুষের প্রাণ বাঁচাতে সক্ষম হল রাজ্য প্রশাসন। অতীতে পোস্তা ফ্লাইওভার বা গার্ডেনরিচের বাড়ি ধসের ঘটনায় যেখানে উদ্ধারকাজ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছিল, সেখানে এবার সেনা, পুলিশ, দমকল, জাতীয় ও রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, স্বাস্থ্য দপ্তর এবং পুরসভার সমন্বিত তৎপরতা নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

বুধবার দুপুর ১২টার কিছু পরে তারাতলার একটি গুদাম ভেঙে পড়ে। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় কলকাতা পুলিশ, দমকল এবং রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে পুলিশ কর্তারা দ্রুত সেনাবাহিনীর সহায়তা চাওয়ার পরামর্শ দেন। কারণ, ভারী কাঠামো সরাতে গিয়ে আরও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা ছিল।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, বেলা আড়াইটে নাগাদ মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল সেনাবাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই বিকেল সোয়া তিনটার মধ্যে সেনার জওয়ানরা উদ্ধারকাজে নেমে পড়েন। একই সঙ্গে এনডিআরএফ, পুলিশ, পুরসভা, দমকল ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরাও উদ্ধারকাজে যোগ দেন।

সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, সন্ধ্যা পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপের নীচ থেকে অন্তত ২১ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। শুধু তাই নয়, আটকে পড়া আরও কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে তাঁদের কাছে জল ও অক্সিজেন পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়।
উদ্ধারকাজে ব্যবহার করা হয় ৫০ টন ওজন তুলতে সক্ষম হাইড্রোলিক ক্রেন, বিশেষ কাটিং মেশিন, স্নিফার ডগ এবং ড্রোন। ধ্বংসস্তূপে নতুন করে ধস নামার আশঙ্কা এড়াতে ক্রেন দিয়ে কাঠামো ধরে রাখা হয়।
পাশাপাশি কিছু জায়গায় ফুটো করে ভিতরে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থাও করা হয়, যাতে আটকে থাকা ব্যক্তিদের অবস্থান নির্ণয় করা সহজ হয়।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, ঘটনাস্থলে পর্যাপ্ত সংখ্যক অ্যাম্বুল্যান্স মোতায়েন করা হয়েছে এবং আহতদের দ্রুত এসএসকেএম হাসপাতালে পৌঁছে দিতে ‘গ্রিন করিডর’-এর ব্যবস্থা করা হয়। সেখানে অস্থায়ী মেডিক্যাল ক্যাম্পও তৈরি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “এই দুর্ঘটনায় ছ’টি বিশেষ বিভাগ একসঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করেছে। মানুষের প্রাণ বাঁচানোই ছিল সরকারের একমাত্র লক্ষ্য।” রাত পর্যন্ত জোরকদমে উদ্ধারকাজ চলেছে এবং ধ্বংসস্তূপে কেউ আটকে আছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।