নদিয়ার কালীগঞ্জের তমন্না খুনের ঘটনায় নতুন মোড়। বিধানসভায় গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে মেয়ের হত্যার বিচার চাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আরও দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করল পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে মুর্শিদাবাদে অভিযান চালিয়ে ওই দুই অভিযুক্তকে আটক করা হয়। এর ফলে এই মামলায় মোট গ্রেফতারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৩।
আরও পড়ুন:
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে কালীগঞ্জ থানার একটি বিশেষ দল মুর্শিদাবাদের একটি ডেরায় হানা দেয়। সেখান থেকেই দু'জনকে গ্রেফতার করা হয়।
বুধবার তাঁদের স্বাস্থ্যপরীক্ষার পর আদালতে তোলা হবে। তদন্তের স্বার্থে তাঁদের পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হতে পারে।আরও পড়ুন:
এই গ্রেফতারির খবর সামনে আসতেই সন্তোষ প্রকাশ করেছেন তমন্নার মা সাবিনা ইয়াসমিন। তিনি বলেন, “আমি বারবার বলেছিলাম, অপরাধীরা লুকিয়ে নেই, তাদের লুকিয়ে রাখা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে আশ্বস্ত হয়েছিলাম। কিন্তু এত দ্রুত পুলিশ ব্যবস্থা নেবে, তা ভাবতে পারিনি।
আশা করছি, বাকি অভিযুক্তদেরও দ্রুত গ্রেফতার করা হবে এবং আমার মেয়ে বিচার পাবে।”আরও পড়ুন:
মঙ্গলবার বিধানসভার অধিবেশনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজেই তমন্না হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি জানান, এই ধরনের ঘটনায় রাজ্য সরকার জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করা হবে। অধিবেশন শেষে সাবিনা ইয়াসমিনের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সিপিএম নেত্রী মিনাক্ষী মুখোপাধ্যায় এবং সিপিএম বিধায়ক মোস্তাফিজুর রহমান। বৈঠক শেষে তাঁরা জানান, মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে সুবিচারের আশ্বাস পেয়েছেন।
আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে কালীগঞ্জ বিধানসভার উপনির্বাচনে তৃণমূলের জয়ের উল্লাস চলাকালীন বোমার আঘাতে তমন্নার মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় তৃণমূল-আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। এরপর থেকেই সুবিচারের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন তমন্নার পরিবার। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তমন্নার মা সাবিনা ইয়াসমিনকে প্রার্থী করেছিল সিপিএম। মঙ্গলবার বিধানসভায় এই ঘটনাকে ঘিরে ফের সরব হয় বিরোধীরা।
আরও পড়ুন:
পরিবারের দাবি, সব অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে দ্রুত বিচার সম্পন্ন করতে হবে। আর সাম্প্রতিক গ্রেফতারির পর তমন্নার পরিবারের আশা, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে ন্যায়বিচারের পথে এগোচ্ছে এই বহুচর্চিত মামলা।