ডবল ইঞ্জিন সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটে শিক্ষা ও পুষ্টি প্রকল্পে বড় জোর দেওয়া হল। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের জন্য মিড-ডে মিল প্রকল্পে উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ বৃদ্ধির ঘোষণা করলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। এর ফলে রাজ্যের লক্ষ লক্ষ পড়ুয়ার পুষ্টিকর খাবারের মান আরও উন্নত হবে বলে মনে করছে সরকার।

সোমবার বিধানসভায় ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেট পেশ করতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী জানান, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মিড-ডে মিলের উপকরণ বাবদ পড়ুয়াপ্রতি বরাদ্দ ৬ টাকা ৭৮ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১০ টাকা করা হচ্ছে।

অর্থাৎ মাথাপিছু বরাদ্দ প্রায় ৪৭ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। সরকারের দাবি, মূল্যবৃদ্ধির বাজারে ছাত্রছাত্রীদের আরও উন্নত মানের খাবার দেওয়ার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কলকাতা পুরসভার অধীনস্থ স্কুলগুলিতে মিড-ডে মিল পরিষেবা আরও সুসংহত করতে ইসকনের সহযোগিতায় খাবার সরবরাহের ব্যবস্থাও করা হবে বলে বাজেটে ঘোষণা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে শহরের স্কুলগুলিতে স্বাস্থ্যসম্মত ও মানসম্পন্ন খাবার পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শুধু খাবারের বরাদ্দ বৃদ্ধি নয়, মিড-ডে মিলের পরিকাঠামো উন্নয়নেও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে রাজ্য সরকার। বাজেটে জানানো হয়েছে, রাজ্যের সমস্ত আইসিডিএস কেন্দ্র, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পর্যায়ক্রমে গ্যাস সংযোগ এবং সৌরবিদ্যুৎ চালিত সোলার প্লেট বসানো হবে। পাশাপাশি নিরাপদ পানীয় জলের ব্যবস্থা, প্রয়োজনীয় বাসনপত্র সরবরাহ এবং রান্নার পরিবেশ উন্নত করার উপরও জোর দেওয়া হয়েছে।

প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলিতে ওয়াটার পিউরিফায়ার বসানোর পরিকল্পনাও ঘোষণা করা হয়েছে।

পাশাপাশি সমস্ত স্কুলে বিদ্যুৎ সংযোগ এবং বৈদ্যুতিক পাখার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার কথা জানানো হয়েছে, যাতে ছাত্রছাত্রীরা আরও ভালো পরিবেশে পড়াশোনা করতে পারে।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রী পোষণ প্রকল্পের আওতায় মিড-ডে মিল কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত রাঁধুনি ও হেল্পারদের জন্যও সুখবর দিয়েছে সরকার। তাঁদের মাসিক সাম্মানিক এক হাজার টাকা বৃদ্ধি করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে এবারের বাজেটে। ফলে এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হাজার হাজার কর্মী সরাসরি উপকৃত হবেন।

বাজেট পেশের পর সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, রাজ্যের ছাত্রছাত্রীদের উন্নত ও পুষ্টিকর খাবার দেওয়াই সরকারের লক্ষ্য। তিনি জানান, মিড-ডে মিলের গুণগত মান বৃদ্ধির পাশাপাশি স্কুলগুলির সামগ্রিক পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রেও সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করবে।