মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথমবার পাহাড়ে জনসভা করে উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং অবকাঠামো উন্নয়নের একাধিক প্রতিশ্রুতি দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার কার্শিয়াংয়ের মন্টেভিওট গ্রাউন্ডে আয়োজিত বিজেপির জনসভা থেকে পাহাড়বাসীর আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেন তিনি।
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর এটি ছিল উত্তরবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর তৃতীয় সফর। এর আগে শিলিগুড়ি ও মালদহে প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দিলেও এবারই প্রথম পাহাড়ে পা রাখলেন তিনি। তাঁকে স্বাগত জানাতে কার্শিয়াংয়ে বিশাল জনসভার আয়োজন করে বিজেপি।
আরও পড়ুন:
সভামঞ্চ থেকে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ২০০৯ সাল থেকে পাহাড় বিজেপির অন্যতম শক্ত ঘাঁটি।
তাই পাহাড়বাসীর প্রত্যাশা পূরণকে অগ্রাধিকার দিয়েই সরকার কাজ করবে। তাঁর কথায়, সড়ক যোগাযোগ, বিপর্যয় মোকাবিলা, পর্যটনের বিকাশ এবং দক্ষতা উন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।আরও পড়ুন:
শিক্ষাক্ষেত্রে আধুনিকীকরণের আশ্বাস দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, পিএম-শ্রী প্রকল্পের আওতায় পাহাড়ের স্কুলগুলিতে চালু করা হবে স্মার্ট ক্লাসরুম। পাশাপাশি কালিম্পংয়ে একটি মেডিক্যাল কলেজ গড়ে তোলা হবে। কার্শিয়াং হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি দার্জিলিং জেলার অন্যান্য হাসপাতালের পরিকাঠামোও উন্নত করা হবে। ‘খেল ইন্ডিয়া’ প্রকল্পের অধীনে পাহাড়ে একটি আধুনিক স্টেডিয়াম তৈরির ঘোষণাও করেন তিনি।
আরও পড়ুন:
যুব সমাজের কর্মসংস্থানের বিষয়েও একাধিক প্রতিশ্রুতি দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, স্বচ্ছতার ভিত্তিতে শিক্ষিত যুবক-যুবতীদের চাকরির সুযোগ তৈরি করা হবে। ইএফআর-এ এক হাজার কর্মী নিয়োগ করা হবে, যার মধ্যে ৩০ শতাংশ পদ মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। পাহাড়ের যুবক-যুবতীরাও এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবেন।
আরও পড়ুন:
এছাড়া ‘ভিভি রামজি’ প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রামীণ এলাকায় ১২৫ দিনের কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়া হবে বলে ঘোষণা করেন তিনি। চা শিল্পের পুনরুজ্জীবনের আশ্বাস দিয়ে শুভেন্দু জানান, বন্ধ হয়ে থাকা ২৫টি চা বাগানকে পুনরায় সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
গোরখা সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া বিভিন্ন মামলার প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে বহু মানুষকে ভুয়ো মামলায় জড়ানো হয়েছিল। মন্ত্রিসভার ক্ষমতা প্রয়োগ করে সেই সমস্ত মামলা প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন:
পাশাপাশি, পাহাড়ে রাজনৈতিক সংঘর্ষে নিহতদের পরিবারগুলির প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে তিনি ঘোষণা করেন, প্রতিটি শহিদ পরিবারের একজন সদস্যকে সরকারি চাকরি দেওয়া হবে এবং মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে।
আরও পড়ুন:
২০২৫ সালের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পুনর্বাসনের বিষয়েও সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, আগের সরকার ১০০ জন গৃহহীন মানুষের মধ্যে মাত্র ১০ জনকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছিল। বাকি ৯০ জনকে পুনর্বাসনের বাইরে রাখা হয়েছিল। বর্তমান সরকার সেই বাকি পরিবারগুলিকেও পুনর্বাসনের আওতায় আনার অনুমোদন দিয়েছে।
আরও পড়ুন:
পাহাড়ে প্রথম জনসভা থেকেই উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও পুনর্বাসনের একাধিক প্রতিশ্রুতি দিয়ে পাহাড়বাসীর আস্থা অর্জনের বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।