পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: কেন্দ্র ও রাজ্যের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক টানাপোড়েন কাটিয়ে অবশেষে পশ্চিমবঙ্গে কার্যকর হতে শুরু করল মোদী সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প ‘প্রধানমন্ত্রী সূর্যঘর যোজনা’। মঙ্গলবার নবান্ন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই জনকল্যাণমুখী প্রকল্পের সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, প্রথম ধাপে রাজ্যের ১,৮০০টি পরিবারকে এই সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে এবং আগামী দিনে আরও বিপুল সংখ্যক মানুষের কাছে এই সুবিধা পৌঁছে দেওয়াই নতুন সরকারের মূল লক্ষ্য। একই সাথে, পূর্ববর্তী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের অসহযোগিতার কারণেই এতদিন বাংলার মানুষ আবেদন করেও এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া থেকে বঞ্চিত ছিলেন বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী।

মধ্যবিত্ত ও প্রান্তিক পরিবারগুলিকে বিদ্যুতের চড়া বিলের হাত থেকে স্বস্তি দিতে ২০২৪ সালে এই ‘প্রধানমন্ত্রী সূর্যঘর যোজনা’ শুরু হয়েছিল।

এই প্রকল্পের মাধ্যমে বাড়ির ছাদে বা সুবিধাজনক স্থানে সোলার প্যানেল বসিয়ে প্রতি মাসে বিনামূল্যে ৩০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ পাওয়া সম্ভব। গত জুন মাসে নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারী এই প্রকল্পের সুবিধা নেওয়ার আহ্বান জানানোর পর থেকে অনলাইন ও অফলাইনে ব্যাপকভাবে আবেদন জমা পড়তে শুরু করে। মাত্র এক মাসের ব্যবধানেই ১,৮০০ জন উপভোক্তার বাড়িতে সোলার প্যানেল বসানোর পাশাপাশি তাঁদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে সরকারি ভর্তুকির টাকা। শুভেন্দু অধিকারী এদিন বেশ কয়েকজন সুবিধাভোগীর সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কথা বলেন, যেখানে উপভোক্তারা জানান যে বিগত জমানায় আবেদন করেও তাঁরা কোনো সাড়া পাননি, তবে প্রশাসনিক নির্দেশ পাওয়ার পর অনলাইনে আবেদন করতেই দ্রুত অ্যাকাউন্টে টাকা চলে এসেছে।

প্রকল্পের আর্থিক সহায়তা সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান যে, সোলার প্যানেলের ক্ষমতা অনুযায়ী সরাসরি উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে রাজ্য সরকারের মাধ্যমে ভর্তুকি জমা হবে। নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী ১ কিলোওয়াট সোলার প্যানেল বসানোর জন্য মিলবে ৩০ হাজার টাকা, ২ কিলোওয়াটের জন্য মিলবে ৬০ হাজার টাকা এবং ৩ কিলোওয়াট ক্ষমতার প্যানেলের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৭৮ হাজার টাকা পর্যন্ত সরকারি ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে।