রাস্তার ধারে অবৈধ পার্কিং, অতিরিক্ত ফি আদায় এবং রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সেই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে এবার বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে রাজ্য সরকার। কলকাতাসহ রাজ্যের সমস্ত পুর এলাকায় ধাপে ধাপে অনলাইন পার্কিং ফি আদায়ের ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই ব্যবস্থায় ফাস্ট্যাগের মাধ্যমে সরাসরি পার্কিং ফি কেটে নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে পার্কিং ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও নিয়ন্ত্রিত করতে বিভিন্ন মডেল নিয়ে আলোচনা চলছে।

শপিং মলগুলিতে চালু থাকা পার্কিং ব্যবস্থাকে অনুসরণ করেই নতুন পদ্ধতি চালু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বৈধ পার্কিং লটগুলিতে কর্মীদের হাতে থাকবে বিশেষ ইলেকট্রনিক পস মেশিন। সেখানে গাড়ির নম্বর, প্রবেশের সময় ও তারিখ নথিভুক্ত করা হবে এবং একটি ডিজিটাল স্লিপ তৈরি হবে।
গাড়ি পার্কিং থেকে বেরোনোর সময় একই মেশিনে গাড়ির নম্বর দিলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে পার্কিংয়ের সময় অনুযায়ী নির্ধারিত ফি দেখিয়ে দেবে। সেই সঙ্গে স্ক্রিনে একটি কিউআর কোডও দেখা যাবে, যা স্ক্যান করে ইউপিআই বা অন্যান্য অনলাইন মাধ্যমে টাকা পরিশোধ করা যাবে।
পাশাপাশি, মেশিনের সঙ্গে স্ক্যানার যুক্ত করে ফাস্ট্যাগ থেকে সরাসরি টাকা কেটে নেওয়ার ব্যবস্থাও চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বর্তমানে দেশের বিভিন্ন জায়গায় পার্কিং ফি আদায়ে ফাস্ট্যাগ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। এবার পশ্চিমবঙ্গেও সেই ব্যবস্থা চালু করতে ফাস্ট্যাগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ন্যাশনাল পেমেন্ট কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়ার (এনপিসিআই) কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছেন পুর দপ্তরের আধিকারিকরা। রাজ্যে কেন্দ্র ও রাজ্যের একই রাজনৈতিক দলের সরকার থাকায় এই প্রকল্প বাস্তবায়ন আরও সহজ হতে পারে বলেও মনে করছেন প্রশাসনের একাংশ।

নতুন ব্যবস্থায় নগদ, অনলাইন কিংবা ফাস্ট্যাগ— যেভাবেই পার্কিং ফি দেওয়া হোক না কেন, প্রতিটি লেনদেনের জন্য মেশিন-জেনারেটেড রসিদ দেওয়া হবে।

পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট গাড়ির মালিকের মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে অর্থপ্রদানের তথ্যও পৌঁছে যাবে। ফলে অতিরিক্ত টাকা আদায় বা দুর্নীতির সুযোগ অনেকটাই কমবে বলে আশা প্রশাসনের।

সরকার গঠনের পর থেকেই অবৈধ পার্কিং এবং পার্কিংয়ের নামে বেআইনি অর্থ আদায় বন্ধ করার কথা জানিয়েছিলেন পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। সেই লক্ষ্যেই অনলাইন ফি সংগ্রহের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই কলকাতা এবং সংলগ্ন এলাকায় নতুন কয়েকটি জায়গাকে বৈধ পার্কিং লট হিসেবে চিহ্নিত করার জন্য সমীক্ষা চলছে।
এছাড়া, আসন্ন বাজেটে একাধিক মাল্টিলেভেল কার পার্কিং স্টেশন তৈরির জন্য বরাদ্দ ঘোষণা করা হতে পারে বলেও সূত্রের খবর। ভবিষ্যতে এই সমস্ত পার্কিং কেন্দ্রেও ডিজিটাল ফি আদায়ের একই ব্যবস্থা চালু করা হবে। প্রশাসনের আশা, প্রযুক্তিনির্ভর এই উদ্যোগের ফলে যেমন রাজস্ব বৃদ্ধি পাবে, তেমনই সাধারণ গাড়িচালকদের হয়রানিও অনেকাংশে কমবে।