তামিলনাড়ু বিধানসভায় মঙ্গলবার নজিরবিহীন উত্তেজনার সৃষ্টি হল। মুখ্যমন্ত্রী ‘তলপতি’ বিজয় ভাষণ দিতে গিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা ডিএমকে প্রধান এম কে স্ট্যালিনের বহুল আলোচিত একটি হাতের ভঙ্গি অনুকরণ করায় শুরু হয় নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক। মুহূর্তের মধ্যে হাসির রোল পড়ে গেলেও পরে তা তুমুল বাদানুবাদ ও হট্টগোলে পরিণত হয়। শেষ পর্যন্ত ক্ষোভে বিধানসভা থেকে ওয়াকআউট করেন ডিএমকে বিধায়কেরা।

রাজ্যপালের ভাষণের উপর ধন্যবাদজ্ঞাপক প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলাকালীন এই ঘটনাটি ঘটে। অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের বক্তব্যের সময় বারবার বাধা দিতে থাকেন ডিএমকে সদস্যরা।

পাল্টা স্লোগান দিতে শুরু করেন টিভিকে-র বিধায়কেরা। দুই পক্ষের মধ্যে বচসা ক্রমশ বাড়তে থাকলে পরিস্থিতি সামাল দিতে হস্তক্ষেপ করেন বিধানসভার স্পিকার জেসিডি প্রভাকর। তিনি সকলকে শান্ত থাকার এবং মুখ্যমন্ত্রীকে তাঁর বক্তব্য শেষ করার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। তবে তাতেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত ডিএমকে সদস্যরা অধিবেশন বয়কট করে বেরিয়ে যান।

বক্তৃতায় রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা, নারী নিরাপত্তা এবং মাদক সমস্যার প্রসঙ্গ তুলে প্রাক্তন ডিএমকে সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন বিজয়। তিনি বলেন, “নারী সুরক্ষা ও মাদক দমনে আমাদের সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

কিন্তু এই সমস্যাগুলি আজকের নয়, বহুদিন ধরেই তামিলনাড়ুর সামনে রয়েছে। এখন সময় এসেছে সেগুলির স্থায়ী সমাধান করার।”

বক্তৃতার মাঝেই তিনি গলার এক পাশ থেকে অন্য পাশে হাত নিয়ে যাওয়ার একটি বিশেষ ভঙ্গি করেন। এই অঙ্গভঙ্গি দেখেই বিধানসভায় উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে হাসির রোল পড়ে যায়। কারণ, গত মার্চ মাসে কংগ্রেসের সঙ্গে আসন সমঝোতা চূড়ান্ত হওয়ার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মুখে কিছু না বলে ঠিক একই ভঙ্গি করেছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন। সেই ভিডিও মুহূর্তের মধ্যে সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায় এবং অনেকেই তার সঙ্গে ‘পুষ্পা’ ছবির জনপ্রিয় স্টাইলের মিল খুঁজে পান।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বিজয় ইচ্ছাকৃতভাবেই স্ট্যালিনের সেই ভাইরাল ভঙ্গি নকল করে তাঁকে কটাক্ষ করেছেন। যদিও এ বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী বা তাঁর দলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।
এদিকে, বিধানসভায় এদিন আরও একবার সামনে আসে ডিএমকে এবং টিভিকে-র তিক্ত সম্পর্ক। সরকার গঠনের সময় কংগ্রেস ও কয়েকটি ছোট দলের সমর্থনে ক্ষমতায় আসে বিজয়ের দল টিভিকে। অথচ নির্বাচনে কংগ্রেস, বাম দল এবং ডিএমকে একজোট হয়ে লড়েছিল। ফলে কংগ্রেসের এই অবস্থান নিয়ে ক্ষুব্ধ ডিএমকে নেতৃত্ব। এদিনও বিধানসভায় সেই প্রসঙ্গ তুলে টিভিকে-র বিরুদ্ধে ‘ঘোড়া কেনাবেচা’র অভিযোগ তোলে বিরোধী শিবির।