পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ দলের ভাঙন ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক টানাপোড়েনের আবহে এবার বিধানসভায় মুখ্য সচেতকের পদ নিয়েও নতুন বিতর্ক তৈরি হল। বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদ গ্রহণ করায় ফিরহাদের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ কালীঘাট নেতৃত্ব। সেই কারণেই প্রথমে তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিস পাঠানো হয়। পরে আরও কঠোর পদক্ষেপ হিসেবে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সোমবার গভীর রাতে বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বোসের কাছে ই-মেলের মাধ্যমে একটি চিঠি পাঠান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

সেখানে তিনি স্পষ্টভাবে জানান, মুখ্য সচেতকের পদে আর ফিরহাদ হাকিমকে রাখা হোক তা তিনি চান না। তাঁর জায়গায় মদন মিত্রকে দায়িত্ব দেওয়ার অনুরোধ করা হয়।

দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার সকালে বিধানসভার অধিবেশন শুরুর আগে কালীঘাট তৃণমূলের প্রতিনিধিরা সেই চিঠি নিয়ে স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তবে সূত্রের খবর, স্পিকার তাঁদের আবেদন গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন। তাঁর বক্তব্য, বিষয়টি বর্তমানে বিচারাধীন হওয়ায় তিনি এই মুহূর্তে কোনও হস্তক্ষেপ করতে পারবেন না।

এর জবাবে তৃণমূল নেতৃত্বের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আদালতে যে বিষয়টি বিচারাধীন রয়েছে তা হল বিধানসভায় প্রকৃত বিরোধী দলনেতা কে, সেই প্রশ্ন। মুখ্য সচেতকের পদ নিয়ে কোনও আইনি জটিলতা নেই বলেই তাঁদের দাবি। তবুও স্পিকারের অবস্থানে কোনও পরিবর্তন হয়নি।

এদিকে দলের সাংগঠনিক কাঠামোতেও একাধিক পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিদ্রোহী শিবিরের কর্মসূচি এবং পৃথক রাজনৈতিক অবস্থান প্রকাশ্যে আসার পরই জাতীয় কর্মসমিতিতে রদবদল করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সংশোধিত তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয় ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস-সহ একাধিক নেতাকে। বিদ্রোহী গোষ্ঠীতে তাঁদের সক্রিয় ভূমিকার জেরেই এই সিদ্ধান্ত বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।