পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ কলকাতা পুরসভার অন্তর্গত সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলগুলিতে মিড-ডে মিলের মেনুতে বড় পরিবর্তন আনতে চলেছে রাজ্য সরকার। এতদিন সপ্তাহে একদিন যে ডিম দেওয়া হতো, তা আর থাকবে না। তার পরিবর্তে পনির, রাজমা, সয়াবিন-সহ নিরামিষ খাদ্য পরিবেশন করা হবে। এই প্রকল্পের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ইসকন-কে।

সোমবার রাজ্য বাজেট পেশ করতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাসগুপ্ত  ঘোষণা করেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মিড-ডে মিলের জন্য ছাত্রপিছু খাদ্য ব্যয় ৬.৭৮ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ টাকা করা হবে। পাশাপাশি ককলকাতা পুরসভা এলাকার স্কুলগুলিতে রান্না করা পুষ্টিকর খাবার সরবরাহের জন্য ইসকনকে যুক্ত করা হবে।

বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের অধিকাংশ স্কুলে সপ্তাহে একদিন ডিম দেওয়া হয়। বাকি দিনগুলিতে থাকে ভাত, ডাল ও সবজি। শিশুদের পুষ্টি, বিশেষ করে প্রোটিনের চাহিদা পূরণে ডিমকে গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য হিসেবে ধরা হয়।

ইসকনের কলকাতা শাখার মুখপাত্র ও সহ-সভাপতি রাধারামন দাস জানান, ডিম বাদ পড়লেও পুষ্টিগুণে কোনও ঘাটতি হবে না। তাঁর কথায়, "আমাদের খাবারে ডিম থাকবে না। তবে পনির, রাজমা, সয়াবিন এবং খিচুড়ির মতো খাবারের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করা হবে।

" রাজ্য সরকারের খাদ্য ব্যয় বৃদ্ধির সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও অনেক শিক্ষকই মনে করছেন, ছাত্রছাত্রীরা এই পরিবর্তনের সঙ্গে সহজে মানিয়ে নিতে পারবে না।ভবানীপুরের একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষক রাজা দে বলেন,  "ডিম দেওয়ার দিনে স্কুলে ছাত্রছাত্রীদের উপস্থিতি বেশি থাকে। ইসকন স্বাস্থ্যসম্মত খাবার দেবে, এতে সন্দেহ নেই। কিন্তু সম্পূর্ণ নিরামিষ খাবারের সঙ্গে পড়ুয়ারা কতটা মানিয়ে নিতে পারবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।" উত্তরপাড়া গভর্নমেন্ট স্কুলের শিক্ষক সৌগত বসুর মতে, অনেক ছাত্রছাত্রী পনির বা রাজমার সঙ্গে পরিচিত নয়। ফলে এটি খাদ্যাভ্যাস চাপিয়ে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

উল্লেখ্য, বিরোধী দলগুলি দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে যে, নিরামিষ খাদ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রবণতা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বাড়ছে। এই সিদ্ধান্তের পরও সেই বিতর্ক নতুন করে উস্কে উঠেছে। বিরোধীদের অনেকের মতে,  ডিমের মতো সহজলভ্য ও জনপ্রিয় প্রোটিনের উৎস বাদ দেওয়া হলে শিশুদের খাদ্য পছন্দের স্বাধীনতা সীমিত হতে পারে।অন্যদিকে, বিজেপি-ঘনিষ্ঠ শিক্ষক সংগঠনের প্রতিনিধিরাও ছাত্রছাত্রীদের পছন্দকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন। ইসকন জানিয়েছে, আপাতত এটি একটি পাইলট প্রকল্প হিসেবে শুরু হচ্ছে। রাজ্য সরকারের কাছ থেকে স্কুলের তালিকা পাওয়ার পর বিশেষ রান্নাঘর তৈরি করে খাবার সরবরাহ করা হবে।ইসকনের দাবি, মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা-সহ দেশের আটটি রাজ্যে তারা ইতিমধ্যেই প্রায় ১২ লক্ষ ছাত্রছাত্রীকে মিড-ডে মিল সরবরাহ করছে। পশ্চিমবঙ্গেও একইভাবে স্বাস্থ্যকর ও পরিচ্ছন্ন খাবার পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।