পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ রাজ্যে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে বড় পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করল সরকার। সোমবার পেশ হওয়া বাজেটে জানানো হয়েছে, সরকারি বিভিন্ন দফতরে মোট এক লক্ষ শূন্যপদে নিয়োগ করা হবে। একইসঙ্গে মহিলাদের কর্মসংস্থানে উৎসাহ দিতে নতুন নিয়োগের এক-তৃতীয়াংশ পদ তাঁদের জন্য সংরক্ষিত রাখার সিদ্ধান্তও ঘোষণা করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত বাজেট বক্তৃতায় জানান, আসন্ন নিয়োগ প্রক্রিয়ার একটি বড় অংশ শিক্ষাক্ষেত্রকে কেন্দ্র করে হবে। মোট শূন্যপদের মধ্যে প্রায় অর্ধেক পদ শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী ও অধ্যাপক নিয়োগের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে।

এছাড়া, পুলিশ বিভাগেও ব্যাপক নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ২০ হাজার পদ পূরণ করা হবে পুলিশ বিভাগে। শিক্ষাক্ষেত্রে শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী ও অধ্যাপক মিলিয়ে প্রায় ৫০ হাজার জনকে নিয়োগের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্ত রাইফেলস বাহিনীতে এক হাজার নতুন নিয়োগ হবে। বাকি শূন্যপদগুলি বিভিন্ন সরকারি দফতরে পূরণ করা হবে।

যেখানে প্রযোজ্য, সেখানে মোট পদের ১০ শতাংশ প্রাক্তন অগ্নিবীরদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।

সরকারের দাবি, নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে। চাকরির পরীক্ষায় সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে নিয়োগকারী সংস্থাকে একটি শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে পরীক্ষার স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রতি জনবিশ্বাস আরও মজবুত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।এদিকে চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বয়সসীমা সংক্রান্ত ছাড়ও বহাল রাখার ঘোষণা করা হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, সরকারি চাকরিতে আবেদনের ক্ষেত্রে বয়সের ঊর্ধ্বসীমায় যে অতিরিক্ত পাঁচ বছরের ছাড় দেওয়া হয়েছে, তা আগামী আরও দুই বছর কার্যকর থাকবে।

বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, উচ্চপদস্থ প্রশাসনিক চাকরিতে আবেদনের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৪১ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। মধ্যস্তরের পদে সেই সীমা ৪৪ বছর এবং অন্যান্য সাধারণ পদে ৪৫ বছর পর্যন্ত আবেদন করা যাবে। সরকার স্পষ্ট করেছে, যেসব পদের ক্ষেত্রে আগে থেকেই বেশি বয়সসীমা নির্ধারিত রয়েছে, সেখানে নতুন করে কোনও পরিবর্তন করা হবে না। শুধু নিয়োগ নয়, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতিতে থাকা পড়ুয়াদের জন্যও বিশেষ সহায়তার ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারি ও সরকার-পোষিত কলেজের যে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাঁদের এককালীন ৩০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। এই প্রকল্পের জন্য বাজেটে ৩০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।