পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ নতুন রাজ্যসরকারের প্রথম বাজেটে যোগাযোগ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ ও আধুনিকীকরণকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিমান পরিবহণ ব্যবস্থা বাড়াতে একাধিক নতুন বিমানবন্দর নির্মাণ এবং বর্তমান পরিকাঠামোর উন্নয়নের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার।
আরও পড়ুন:
বাজেট অনুযায়ী, কেন্দ্রের আঞ্চলিক বিমান পরিষেবা প্রকল্পের আওতায় পুরুলিয়া, বালুরঘাট এবং মালদায় নতুন বিমানবন্দর গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি কোচবিহারের বর্তমান বিমানবন্দর সম্প্রসারণের কাজও হাতে নেওয়া হচ্ছে।
এই খাতে চলতি অর্থবর্ষে ১০ কোটি টাকা বরাদ্দের কথাও জানানো হয়েছে।আরও পড়ুন:
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘোষণা হিসেবে উঠে এসেছে কলকাতার নিকটবর্তী এলাকায় দ্বিতীয় বিমানবন্দর তৈরির পরিকল্পনা। রাজ্য সরকারের প্রস্তাব অনুযায়ী, কল্যাণীর কাছে একটি নতুন বিমানবন্দর নির্মাণের জন্য প্রায় এক হাজার থেকে দেড় হাজার একর জমি চিহ্নিত করা হবে। সাম্প্রতিক সময়ে কলকাতার বিমানবন্দরে যাত্রীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় ভবিষ্যতের চাপ সামাল দিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে বাজেটে উল্লেখ করা হয়েছে।
একই সঙ্গে আঞ্চলিক অর্থনীতির বিকাশ এবং বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রেও এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে।আরও পড়ুন:
বাজেটে প্রতিরক্ষা-সংক্রান্ত পরিকাঠামোর উন্নয়নেও জোর দেওয়া হয়েছে। সেই লক্ষ্যে হাসিমারা বিমানঘাঁটির জন্য ২৫ একর এবং কলাইকুণ্ডা বিমানঘাঁটির জন্য ৩৭ একর জমি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। কৌশলগত প্রয়োজন ও ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের কথা মাথায় রেখেই এই পদক্ষেপ বলে প্রশাসনিক মহলের দাবি।
জানা গিয়েছে, কলকাতা থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত কল্যাণীকে নতুন বিমানবন্দরের সম্ভাব্য স্থান হিসেবে দীর্ঘদিন ধরেই বিবেচনা করা হচ্ছে। ভৌগোলিক অবস্থান, চিকিৎসা পরিষেবার ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব এবং উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের সঙ্গে যোগাযোগের সুবিধার কারণে কল্যাণী বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। রাজ্যে একমাত্র এইমস এখানেই অবস্থিত হওয়ায় প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক রোগী ও তাঁদের পরিবার বিভিন্ন জেলা থেকে এখানে আসেন।আরও পড়ুন:
প্রসঙ্গত, উত্তরবঙ্গের বহু জেলার সঙ্গে নদিয়ার সরাসরি রেল যোগাযোগ এখনও সীমিত। ফলে চিকিৎসা কিংবা অন্যান্য প্রয়োজনে কল্যাণীতে পৌঁছতে অনেক ক্ষেত্রেই যাত্রীদের অতিরিক্ত সময় ব্যয় করতে হয়। এই পরিস্থিতিতে একটি বিমানবন্দর গড়ে উঠলে উত্তরবঙ্গ-সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের যাতায়াত অনেক সহজ হবে।