পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ রাজ্যের নতুন বাজেটে সুন্দরবনের উন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য পরিষেবা, কৃষি, সেচব্যবস্থা, মৎস্যচাষ, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় একাধিক প্রকল্পের ঘোষণা করা হয়েছে। বাজেটে সুন্দরবনকে আরও সুরক্ষিত ও উন্নত করে তোলার লক্ষ্যে নানা পদক্ষেপের কথা তুলে ধরা হয়েছে। সুন্দরবনের মানুষের চিকিৎসা পরিষেবা আরও সহজলভ্য করতে সেখানে আধুনিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন:
পাশাপাশি নদীবেষ্টিত অঞ্চলের কথা মাথায় রেখে চালু করা হবে জলযানভিত্তিক অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা।
অন্তঃসত্ত্বা মহিলাদের জন্য বিভিন্ন দ্বীপ এলাকায় পৃথক প্রসূতি কেন্দ্র তৈরির কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া সরকারি হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের খাদ্য খাতে দৈনিক বরাদ্দ বৃদ্ধি করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের বাইরে উন্নত চিকিৎসার জন্য যাঁরা মুম্বই বা ভেলোরে যাবেন, তাঁদের থাকার সুবিধা নিশ্চিত করতেও বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।আরও পড়ুন:
সুন্দরবন-সহ জলবায়ু সংবেদনশীল অঞ্চলে সেচব্যবস্থা উন্নত করতে রাজ্যের প্রধান নদীগুলিকে কেন্দ্র করে সমন্বিত জল ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা তৈরি করা হবে। নদীর জল সংরক্ষণ ও ব্যবহার আরও কার্যকর করতে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।
একই সঙ্গে বহুদিন ধরে জীর্ণ ও ভরাট হয়ে যাওয়া নদীখাত পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বৃহৎ প্রকল্পের মাধ্যমে এই নদীগুলিকে মূল প্রবাহের সঙ্গে যুক্ত করে জলধারণ ক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে কৃষিকাজে জল সরবরাহ বৃদ্ধি পায়। সুন্দরবনের নোনা জল ও জলাভূমি এলাকায় মৎস্য উৎপাদন বাড়াতে আধুনিক পরিকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মাছের পোনা উৎপাদন কেন্দ্র, উন্নত মৎস্য খামার, সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র তৈরির মাধ্যমে এই খাতকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে।
আরও পড়ুন:
ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের ধাক্কা থেকে সুন্দরবনকে সুরক্ষিত রাখতে দীর্ঘ ৬০ কিলোমিটার প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন বাঁধ নির্মাণের ঘোষণা করা হয়েছে।
এই প্রকল্পের জন্য এক হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। উপকূলীয় বাস্তুতন্ত্রের সুরক্ষা এবং জনবসতির নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এর প্রধান লক্ষ্য সুন্দরবনের প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে নতুন ম্যানগ্রোভ বন সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলিকে এই কাজে যুক্ত করা হবে। চলতি অর্থবর্ষে এই খাতে ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। প্রতি বছর ঘূর্ণিঝড় ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সুন্দরবন ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে। সেই পরিস্থিতি মোকাবিলায় জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো গড়ে তুলতে নতুন তহবিল গঠনের ঘোষণা করা হয়েছে।