পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পকে ঘিরে ইতিমধ্যেই বহু মহিলাদের মনে সংশয় তৈরি হয়েছে। সন্তান যদি বেসরকারি স্কুলে পড়ে তাহলে কি অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের সুবিধা মিলবে? এবার এই সংশয় দূর করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতায় জনকল্যাণ শিবির পরিদর্শন করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে একটি অনুষ্ঠান থেকে শুভেন্দু অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার সংক্রান্ত একাধিক বিষয় পরিষ্কার করে দেন।

 

উল্লেখ্য, রাজ্যজুড়ে বর্তমানে জনকল্যাণ শিবিরের মাধ্যমে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের জন্য আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে। আবেদনপত্রে পরিবারের সদস্যদের বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হচ্ছে বলে অনেকের মধ্যেই কৌতূহল তৈরি হয়েছে। পরিবারের আয়, জমিজমার পরিমাণ, সন্তানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম থেকে শুরু করে করোনাপ্রতিষেধক গ্রহণের তথ্যও জমা দিতে হচ্ছে। ফলে অনেকেই মনে করছিলেন, নির্দিষ্ট আর্থিক মানদণ্ডের ভিত্তিতেই সুবিধাভোগীদের নির্বাচন করা হবে। এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী জানান, যেসব পরিবারের সন্তানরা সরকারি বা সরকার-পোষিত বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে, তারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবে।

বেসরকারি বিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের ক্ষেত্রেও আর্থিক সহায়তা মিলবে, তবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সরকারের স্বীকৃতিপ্রাপ্ত হতে হবে। স্বীকৃতিহীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের এই সুবিধার আওতায় আনা হবে না।

মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, অতীতে একই ধরনের বিভিন্ন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই বর্তমান সরকার সুবিধাভোগী নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই এক কোটিরও বেশি আবেদন জমা পড়েছে এবং সেগুলি খতিয়ে দেখে যোগ্যদের বেছে নেওয়ার কাজ চলছে। পাশাপাশি করোনা মহামারির সময় সরকারি প্রতিষেধক বা ভ্যাকসিন গ্রহণ না করা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও আর্থিক সহায়তা প্রদানে বিধিনিষেধ থাকবে বলে তিনি স্পষ্ট করেন।