পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ বিধানসভায় অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তের বাজেট পেশের পরেই সরকারের আর্থিক নীতির বিরুদ্ধে তীব্র বাজেট সমালোচনা শুরু করেছে বিরোধী শিবির। বাজেট পেশ পর্ব সমাপ্ত হওয়ার পর বিধানসভার প্রেস কর্নারে এক সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করেন বিদ্রোহী তৃণমূল কংগ্রেস নেতা তথা রাজ্য বিধানসভার বর্তমান বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সম্মেলন থেকেই তিনি এই নতুন বাজেটকে পরিকাঠামোগতভাবে সম্পূর্ণ দিশাহীন বলে কড়া ভাষায় কটাক্ষ করেছেন। পরিকাঠামো খাতে সুস্পষ্ট রূপরেখার অভাব এবং সংখ্যালঘু উন্নয়নের বাজেটে অভাবনীয় হারে বরাদ্দ ছাঁটাইয়ের মতো বিষয়গুলি তুলে ধরে তিনি রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন। তবে এই সার্বিক বাজেট সমালোচনা সত্ত্বেও, রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্য এক ধাক্কায় ২০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণাকে সাধুবাদ জানাতে ভোলেনি বিরোধী শিবির।

এদিন বাজেট পেশের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, এত কম সময়ে গোটা বাজেটের চুলচেরা বিশ্লেষণ করা সম্ভব নয়। সমগ্র বাজেট প্রস্তাবটি পূর্ণাঙ্গভাবে পড়ে এবং তা নিয়ে বিশদ চর্চা করার পরেই তাঁরা এ বিষয়ে তাঁদের চূড়ান্ত ও বিস্তারিত মন্তব্য জানাবেন। তবে প্রাথমিক পর্যালোচনার ভিত্তিতেই বাজেটে পরিকাঠামো নির্মাণের সুস্পষ্ট রোডম্যাপের অভাব প্রকট হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, বাজেটে পরিকাঠামো উন্নয়নের কথা নানাভাবে বলা হলেও, বাস্তবে এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খাতে ঠিক কত টাকা ব্যয় করা হবে, তার কোনো নির্দিষ্ট বা স্পষ্ট উল্লেখ নেই। এই প্রসঙ্গে সরকারকে নিশানা করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, পরিকাঠামো নির্মাণ যদি না হয়, তাহলে মানুষের হাতে টাকা পৌঁছবে না।

আর মানুষের ক্রয়ক্ষমতা না বাড়লে অর্থনীতি কোনোভাবেই শক্তিশালী হবে না।

এর পাশাপাশি, বাজেটে উল্লিখিত ইজ অফ ডুইং বিজনেস বা সহজে ব্যবসা করার সরকারি নীতি নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন বিরোধী দলনেতা। এই প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, বিরোধী দল কোনোভাবেই রাজ্যে শিল্প বা সহজে ব্যবসা করার নীতির বিরোধী নয়। কিন্তু তাঁর প্রবল আশঙ্কা, এই নীতির আড়ালে যদি সবকিছু ঢালাওভাবে বেসরকারি ক্ষেত্রের হাতে তুলে দেওয়া হয় এবং সেখানে সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ না থাকে, তবে তা হিতে বিপরীত হতে পারে। এর ফলে সাধারণ মানুষের কল্যাণ বা জনস্বার্থ বিঘ্নিত হয়ে তা কেবল কর্পোরেট সংস্থাগুলির মুনাফা বৃদ্ধির হাতিয়ারে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।