পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: নারী সুরক্ষার দাবিতে দেশজুড়ে চলা আন্দোলনের মাঝেই ফের এক চরম নৃশংসতার সাক্ষী হলো মধ্যপ্রদেশ। রাজ্যের উজ্জয়িনী জেলায় এক ৩০ বছর বয়সী আদিবাসী মহিলাকে তাঁর ১২ বছরের নাবালক সন্তানের সামনেই গণধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার সময় মহিলার স্বামীকে আগ্নেয়াস্ত্রের মুখে ব্যাপক মারধরও করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ জুন উজ্জয়িনীর বড়নগর থানা এলাকায় এই বর্বরচিত ঘটনাটি ঘটে। নির্যাতিতার পরিবারটি আদতে ধড় জেলার বাসিন্দা।
আরও পড়ুন:
অভিযোগ, গত ১৮ জুন গভীর রাতে তিন দুষ্কৃতী ওই খামারে তার এবং কেবল চুরি করার উদ্দেশ্যে হানা দেয়। শব্দ পেয়ে পরিবারের সদস্যদের ঘুম ভেঙে গেলে দুষ্কৃতীরা চড়াও হয়। প্রথমে মহিলার স্বামীকে জোরপূর্বক কুঁড়েঘর থেকে টেনে-হিঁচড়ে বাইরে বের করে আনা হয়।
এরপর বন্দুকের নল ঠেকিয়ে তাঁকে ব্যাপক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। স্বামীকে কাবু করার পর দুষ্কৃতীরা ওই কুঁড়েঘরে প্রবেশ করে। সেখানে তখন ভয়ে কাঁপছিলেন ওই আদিবাসী মহিলা ও তাঁর ১২ বছরের ছেলে। দুষ্কৃতীরা মা ও ছেলেকে টেনে নিয়ে সামান্য দূরের একটি নির্জন জায়গায় যায়। সেখানে নাবালক ছেলেটির মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে হুমকি দেওয়া হয় যে, সে যদি চিৎকার করে বা মুখ খোলে, তবে তার মা-বাবাকে খুন করা হবে। এরপর অসহায় সন্তানের সামনেই তিন দুষ্কৃতী একে একে ওই মহিলাকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ।আরও পড়ুন:
ভয়াবহ এই ঘটনার পর নির্যাতিতা আদিবাসী মহিলা বড়নগর থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ গণধর্ষণ ও অস্ত্র আইনের একাধিক ধারায় মামলা এফআইআর রুজু করেছে। উজ্জয়িনীর পুলিশ সুপার প্রদীপ শর্মা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানিয়েছেন, "অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। দম্পতিকে ইতিমধ্যেই ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছিল এবং সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। গত শনিবার, ২০ জুন জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে নির্যাতিতা মহিলার জবানবন্দি নথিভুক্ত করা হয়েছে।"