পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ মহারাষ্ট্রে সফল হয়েছে অপারেশন টাইগার। শিবসেনা (ইউবিটি)-র মধ্যে ভাঙন নিয়ে জল্পনা বেশ কয়েকদিন ধরেই জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। অবশেষে সেই জল্পনার অবসান ঘটিয়ে সোমবার একনাথ শিন্ডের শিবসেনা গোষ্ঠীতে যোগ দিলেন শিবসেনা (ইউবিটি)-র ৬ জন বিদ্রোহী সাংসদ। এই শিবসেনা ভাঙন মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে এক বড় প্রভাব ফেলতে চলেছে। সোমবার তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে শিন্ডে শিবিরে যোগ দেন। এই ৬ জন সাংসদ একনাথ শিন্ডের নেতৃত্বাধীন শিবসেনায় যোগ দেওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই দলের সাংসদ সংখ্যা ৭ থেকে বেড়ে ১৩ জনে পৌঁছাবে।
আরও পড়ুন:
এদিন ৬ সাংসদ শিবসেনা (ইউবিটি) থেকে বেরিয়ে শিন্ডে শিবিরে যোগদানের পর মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী এবং শিবসেনা প্রধান একনাথ শিন্ডে তাঁদের স্বাগত জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, এই সাংসদরা শিবসেনার প্রতিষ্ঠাতা বালাসাহেব ঠাকরের আদর্শ অনুসরণকারী প্রকৃত শিবসেনায় যোগ দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, সমস্ত প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া ও আনুষ্ঠানিক কাজকর্ম সম্পন্ন হয়েছে। এখন এই ৬ সাংসদ আনুষ্ঠানিকভাবে শিবসেনার অংশ। একইসঙ্গে ২০২২ সালে শিবসেনা ভাঙন এর কথা স্মরণ করিয়ে একনাথ শিন্ডে বলেন, সেই সময় তাঁকে ৪০ জন বিধায়ক সমর্থন করেছিলেন। শিবসেনা ভাঙন এর দ্বিতীয় পর্যায়ে শিন্ডের এই ৬ সাংসদের যোগদানকে তিনি তাঁর শিবিরের জন্য বড় সাফল্য বা ছক্কা বলে উল্লেখ করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তাঁর শিবিরের সংগ্রাম সর্বদা বালাসাহেব ঠাকরের আদর্শকে রক্ষা করার জন্যই ছিল। সেই কারণেই এই ছয়জন সাংসদ প্রকৃত শিবসেনাতে যোগ দিয়েছেন।আরও পড়ুন:
জানা গিয়েছে, এদিন মুম্বইয়ে একনাথ শিন্ডের হাত ধরে ওই ৬ সাংসদ দলবদল করেন। এই অপারেশনের সাফল্যে খুশি মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিসও। তিনি বলছেন, অপারেশন টাইগার সফল হয়েছে। যাদের আত্মসমালোচনা করা দরকার তারা তা করতে পারে। ফলে প্রশ্ন উঠছে এবার শিবসেনা কি পুরোটাই চলে গেল একনাথ শিন্ডের হাতে? মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী তথা শিন্ডে গোষ্ঠীর বিধায়ক প্রতাপ সারনাইক সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, সাংসদরা তাদের সিদ্ধান্তের বিষয়ে লোকসভার স্পিকারকে একটি চিঠি জমা দিয়েছেন। প্রতাপ এই পদক্ষেপকে দলের অপারেশন টাইগারের সুফল হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তিনি জানান, যে ৬ জন সাংসদ বালাসাহেব ঠাকরের আদর্শ অনুসরণ করেন, তারাই শিবসেনায় যোগ দিচ্ছেন। উল্লেখ্য, শিবসেনা (ইউবিটি)-র ৯ জনের মধ্যে ৬ জন অর্থাৎ দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদ একসঙ্গে ওই সিদ্ধান্ত নেওয়ায় তাঁদের দলত্যাগ বিরোধী আইনেও পড়তে হবে না বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।আরও পড়ুন:
এদিকে, শিবসেনা (ইউবিটি) বিধায়ক মহেশ সাওয়ান্ত জানিয়েছেন, আদিত্য ঠাকরে বিদ্রোহী সাংসদদের পদত্যাগ করে তাঁদের নতুন রাজনৈতিক ব্যানারে ভোটারদের কাছে নতুন করে জনসমর্থন চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সাংবাদিকদের জানান, যাঁরা দল ছাড়ছেন তাঁদের উচিত জনসমর্থন পাওয়ার জন্য পুনরায় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা। তাঁদের উচিত নিজেদের শক্তিতে নির্বাচনে লড়া। এরইমধ্যে, ইউবিটি সেনা প্রধান উদ্ধব ঠাকরে দলত্যাগের জল্পনার মুখে থাকা সাংসদদের নির্বাচনী এলাকাগুলোসহ দলীয় কর্মীদের সঙ্গে দেখা করার জন্য মহারাষ্ট্র জুড়ে একটি প্রচার অভিযান শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ইউবিটি নেতা সঞ্জয় রাউতের শেয়ার করা সময়সূচী অনুযায়ী, ঠাকরে ২৭ জুন ইয়াভাতমাল ও ওয়াশিম সফরের মাধ্যমে প্রচার শুরু করবেন। এরপর যাবেন হিঙ্গোলি, পারভানি, ধারাশিব এবং শিরডি।