উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়: এ বছর সুন্দরবন থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণে সুন্দরবন মধু সংগ্রহ হওয়ায় মউলেদের মনে আনন্দের জোয়ার বইছে। সুন্দরবন ব্যাঘ্র প্রকল্পের পক্ষ থেকে চলতি বছর ১৫ মেট্রিক টন মধু সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সেই লক্ষ্যমাত্রা সফলভাবে পূরণ হয়েছে। বন দফতর ইতিমধ্যেই মউলেদের সংগ্রহ করা সমস্ত মধু কিনে নিয়েছে।

চলতি বছর ৩ এপ্রিল থেকে মধু সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছিল। সুন্দরবন ব্যাঘ্র প্রকল্প এলাকা থেকে মোট ৪২৮ জন মউলে ৪৯টি দলে বিভক্ত হয়ে গভীর জঙ্গলে মধু সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন।

আশার কথা হলো, প্রত্যেকেই পর্যাপ্ত পরিমাণে মধু সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছেন। সবচেয়ে স্বস্তির বিষয় হলো, এ বছর মধু সংগ্রহ করতে গিয়ে কোনো মউলেই কোনো প্রকার দুর্ঘটনার শিকার হননি, যা মউলেদের পরিবার ও বন দফতরকে বাড়তি আনন্দ দিয়েছে।

বন দফতরের তথ্য অনুযায়ী, সজনেখালি রেঞ্জ থেকে ১৬টি দল এবং বসিরহাট রেঞ্জ থেকে ৩৩টি দল মধু সংগ্রহের কাজে অংশগ্রহণ করেছিল। সংগৃহীত মধুর গুণগত মানের ওপর ভিত্তি করে সেগুলোকে গ্রেড-এ এবং গ্রেড-বি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই মধুর জন্য মউলেদের যথাক্রমে ২৭৫ টাকা ও ২৫০ টাকা দরে মূল্য পরিশোধ করা হয়েছে এবং মউলেরা সেই অর্থ ইতিমধ্যেই পেয়ে গেছেন।

নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরে আসায় মউলেদের পরিবারের সদস্যরা অত্যন্ত খুশি। মউলেদের দাবি, নতুন সরকার যদি তাদের জীবিকা নিয়ে বিশেষ কোনো পরিকল্পনা গ্রহণ করে, তবে তারা অর্থনৈতিকভাবে আরও উপকৃত হবেন। মধু সংগ্রহ তাদের বার্ষিক আয়ের একটি বড় উৎস।

বন দফতরের পক্ষ থেকে এ বছর মউলেদের জন্য বিশেষ জীবন বীমার ব্যবস্থা করা হয়েছিল, তবে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটায় তার আর প্রয়োজন পড়েনি। পর্যাপ্ত পরিমাণে উন্নত মানের সুন্দরবন মধু পাওয়ায় এবং মউলেদের সুস্থভাবে ফিরে আসায় এ বছর সবার মুখে হাসি ফুটেছে। মউলেদের প্রত্যাশা, নতুন সরকার যদি তাদের উন্নয়নের দিকে আরও নজর দেয়, তবে তারা আগামী দিনে আরও ভালোভাবে এই পেশায় টিকে থাকতে পারবেন।