উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়: সুন্দরবনের গভীরে ফের বাঘের আক্রমণ কেড়ে নিল এক মৎস্যজীবীর প্রাণ। কুলতলির মৈপিঠ ভূবেনেশ্বরীর পয়লাঘেরির বাসিন্দা বন্দনা দাস মঙ্গলবার তার স্বামীর সঙ্গে সুন্দরবনের চুলকাটির জঙ্গল লাগোয়া এলাকায় মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। সেখানেই বুধবার বাঘের আক্রমণে তার স্বামী নিহত হন। ওই মৎস্যজীবীর পরিবারে এখন শোকের ছায়া, বাড়িতে তার সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছেলে এবং দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়ে রয়েছে।
আরও পড়ুন:
এই অসহায় মৎস্যজীবীদের পাশে দাঁড়িয়ে কাজ করে চলেছে মানবাধিকার সংগঠন এপিডিআর।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আলতাফ আমেদ জানিয়েছেন, এই ঘটনা নিয়ে গত ১৮ দিনে মোট ৫ জন বাঘের আক্রমণ এর শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত ১১ জন সুন্দরবনের বাঘের আক্রমণ এর কবলে পড়েছেন, যার মধ্যে ৯ জন নিহত এবং ২ জন আহত হয়েছেন।আরও পড়ুন:
বনদপ্তরের উদাসীনতার অভিযোগ তুলে তিনি আরও বলেন, গত ৩১ মে এবং ১ জুন আক্রান্ত গোপাল চক্রবর্তী ও রামপ্রসাদ বাগানীর দেহ এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। আজকের এই অসহায় মৎস্যজীবী বন্দনা দাসের পরিবারের পাশে বনমন্ত্রীকে দাঁড়ানোর বার্তা দিতে হবে। বনমন্ত্রীর এই নীরবতা সুন্দরবনবাসী মৎস্যজীবী পরিবার এবং এপিডিআর মেনে নেবে না।
আরও পড়ুন:
এপিডিআরের পক্ষ থেকে বেশ কিছু দাবি জানানো হয়েছে। প্রথমত, মৎস্যজীবীদের মৃত্যুমিছিল বন্ধ করার জন্য সরকারকে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে। দ্বিতীয়ত, অবিলম্বে সকল মৎস্যজীবীর জন্য সমুদ্র ভাতা মঞ্জুর করতে হবে। তৃতীয়ত, আর্থিক অনটনের কারণে যাতে শিশুদের পড়াশোনা বন্ধ না হয়, সেদিকে প্রশাসনকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। চতুর্থত, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী মৃতের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং পরিবারের একজনের সরকারি চাকরির ব্যবস্থা করতে হবে।