পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ কলকাতার তারাতলা এলাকায় বুধবার দুপুরে নির্মীয়মাণ একটি গুদামে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে। কাজ চলাকালীন আচমকাই গুদামের ছাদ ধসে পড়ে। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত একজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। বহু শ্রমিক আটকে রয়েছে। ফলে আর মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিপর্যয়ের খবর পেয়েই ঘটনাস্থলেই পৌঁছেছেন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ ও অগ্নিমিত্রা পাল।
আরও পড়ুন:
ইন্দ্রনীল খাঁ জানান, পুলিশ, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী পৌঁছে গিয়েছে।
এছাড়াও সেনা নামানো হয়েছে। তিনি জানান, দ্রুতগতিতে উদ্ধারকাজ হচ্ছে। আমাদের প্রথম লক্ষ্য হচ্ছে প্রাণ বাঁচানো। তিনি আগের ততৃণমূল সরকারকে নিশানা করে বলেন, আগের সরকারের আমলে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে গোডাউনটি তৈরি হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী পুরো পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন।আরও পড়ুন:
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্ঘটনার সময় গুদামের ভিতরে কয়েক ডজন শ্রমিক নির্মাণকাজে ব্যস্ত ছিলেন। হঠাৎ করেই ছাদের একটি বড় অংশ ভেঙে পড়লে শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
অনেকেই বেরিয়ে আসতে সক্ষম হলেও বেশ কয়েকজন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়েন। উদ্ধারকাজে ব্যবহার করা হচ্ছে ভারী যন্ত্রপাতি। ধসে পড়া লোহার শেডের কাঠামো সরাতে বিশেষ কাটার যন্ত্রের সাহায্য নেওয়া হয়েছে। উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আটকে পড়া শ্রমিকদের বের করে আনার জন্য নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আহতদের নিকটবর্তী হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে, নির্মাণকাজ চলাকালীন কোনও কাঠামোগত ত্রুটির জেরেই এই বিপর্যয় ঘটে থাকতে পারে।আরও পড়ুন:
জানা গিয়েছে, বন্দরের জমিতে তৈরি হচ্ছিল ওই চায়ের গুদামটি। বুধবার চলছিল তিনতলার ছাদ ঢালাইয়ের কাজ। রাকেশ সিংয়ের দাবি, ৪০ থেকে ৫০ জন আটকে রয়েছে। ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে ভিতরে এখনও কমপক্ষে ৩০ জন আটকে রয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। এদিকে, এই ঘটনার পরেই নবান্নের তরফে কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে। তিনটি নম্বর চালু করা হয়েছে। সেগুলো হল, ১০৭০, ৮৬৯৭৯৮১০৭০, ০৩৩২২১৪৩৫২৬ অ ০৩৩২২৫৩৫১৮৫। জানা যাচ্ছে শ্রমিকদের পরিবারের সদস্যদের অনেকেই সেখানে পৌঁছেছেন। তাঁরা কান্নায় ভেঙে পড়েছেন।