পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: ভারতীয় পাসপোর্ট মূলত একটি 'ভ্রমণ নথি', এটি কোনো 'নাগরিকত্বের দলিল' নয়। বুধবার ‘পাসপোর্ট সেবা দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা দিলেন বিদেশ মন্ত্রকের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক। বর্তমানে দেশের ১৬টি রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া চলছে। এই প্রক্রিয়ায় বহু মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এই আবহে, ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া কোনো ব্যক্তি তাঁর ভারতীয় পাসপোর্ট দেখিয়ে নাগরিকত্ব দাবি করতে বা সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেন কি না— সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে এমন একটি প্রশ্ন করা হয়েছিল।
তার জবাবেই বিদেশ মন্ত্রকের ওই আধিকারিক স্পষ্ট করে বলেন, "তাত্ত্বিক ও আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে পাসপোর্টকে নাগরিকত্ব প্রমাণকারী অন্যান্য নথির থেকে আলাদা করে দেখা উচিত। পাসপোর্ট মূলত ভারতীয় নাগরিকদের আন্তর্জাতিক স্তরে যাতায়াত এবং বিদেশি বন্দর বা ভূখণ্ড অতিক্রম করতে সাহায্য করে। বিদেশের মাটিতে এটি আপনার জাতীয়তা প্রমাণ করলেও, দেশের অভ্যন্তরে এটিকে নাগরিকত্বের চূড়ান্ত দলিল হিসেবে গণ্য করা যায় না।"আরও পড়ুন:
অনুষ্ঠানে বিদেশ মন্ত্রকের অন্য এক আধিকারিক জানান, অত্যন্ত কঠোর যাচাইকরণ এবং সতর্কতা অবলম্বনের পরেই একজন আবেদনকারীকে ভারতীয় পাসপোর্ট ইস্যু করা হয়। তিনি বলেন, "আমরা নিশ্চিত করি যে যিনি পাসপোর্ট পাচ্ছেন, তিনি প্রকৃতপক্ষেই এর যোগ্য।
এর জন্য একাধিক সরকারি সংস্থার দেওয়া নথির ওপর আমরা নির্ভর করি। প্যান কার্ড বা অন্যান্য পরিচয়পত্রের মতো সরকারি নথির ডেটা এবং ব্যাকগ্রাউন্ড পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখেই এই পাসপোর্ট দেওয়া হয়।"আরও পড়ুন:
বিশ্ব বাজারে ভারতীয় জনশক্তিকে যুক্ত করার ক্ষেত্রে পাসপোর্টের গুরুত্বের কথা উল্লেখ করেন বিদেশ মন্ত্রকের আধিকারিকেরা। তাঁরা জানান, ভারতীয় নাগরিকদের জন্য বিদেশের মাটিতে নিরাপদ ও সুরক্ষিত কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে সরকার আগামী মাসগুলিতে বেশ কিছু বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে। বিশেষ করে জাপান এবং বিভিন্ন পশ্চিমা উন্নত দেশগুলির সাথে ‘মোবিলিটি এনগেজমেন্ট’ বা যাতায়াত ও শ্রম চুক্তি আরও জোরদার করা হবে। এর ফলে ভারতের দক্ষ কর্মীরা এই সমস্ত শিল্পোন্নত দেশগুলিতে গিয়ে বৈধভাবে কাজ করার সুবর্ণ সুযোগ পাবেন।