তারাতলার মর্মান্তিক গুদাম ধসের ঘটনায় মৃতদের পরিবারপিছু ১০ লক্ষ টাকা এবং আহতদের জন্য ১ লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে তিনি গোটা দুর্ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দুর্ঘটনার মাত্র তিরিশ মিনিটের মধ্যেই উদ্ধারকাজ শুরু হয়ে যায়। প্রথমে কলকাতা পুলিশ, দমকল বাহিনী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধারকাজে হাত লাগান। পরে যোগ দেয় জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ), সেনাবাহিনী এবং অন্যান্য উদ্ধারকারী সংস্থা।

বুধবার রাতভর টানা উদ্ধার অভিযান চলে এবং বৃহস্পতিবার সকালেও সেই অভিযান অব্যাহত ছিল।
বিধানসভায় দেওয়া বক্তব্যে মুখ্যমন্ত্রী জানান, সরকারের পক্ষ থেকে প্রথমেই ঘটনাস্থলে পৌঁছান ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ ও পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। পরে দমকলমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়-সহ একাধিক মন্ত্রী ও প্রশাসনিক কর্তারা সেখানে উপস্থিত হন। তিনি বলেন, শুরু থেকেই তিনি পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছিলেন। প্রাথমিকভাবে উদ্ধারকাজে কোনও বিঘ্ন না ঘটাতে তিনি ঘটনাস্থলে যাননি, তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর বিকেলে সেখানে পৌঁছে উদ্ধারকাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন এবং হাসপাতালে গিয়ে আহতদের সঙ্গেও কথা বলেন।

মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপ থেকে ২৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং বাকিরা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তবে এখনও কয়েকজনের ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকার আশঙ্কা রয়েছে। তাঁদের উদ্ধারে সেনাবাহিনী, এনডিআরএফ, দমকল ও পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে, ঘটনার তদন্তে ইতিমধ্যেই একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করা হয়েছে।
এই দলে রয়েছেন গোয়েন্দা বিভাগের একাধিক অভিজ্ঞ আধিকারিক। তারাতলা বিপর্যয়ের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন গুদামের সুপারভাইজার, লোহার কাঠামো নির্মাতা, জমির লিজগ্রহীতা, শ্রমিক সরবরাহকারী ঠিকাদার এবং নির্মাণ পরিকল্পনা অনুমোদনের মধ্যস্থতাকারী।
প্রশাসনের দাবি, এই দুর্ঘটনায় আরও কারও গাফিলতি বা অবহেলার প্রমাণ মিললে তাঁদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, দোষীদের কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হবে।