পুবের কলম ওয়েব ডেস্কঃ তারাতলা বিপর্যয়ে এখনও পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১১। গতকাল দুপুরে নির্মীয়মাণ গুদামের ছাদ ভেঙে পড়ায় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। আহত ২০ জনের চিকিৎসা চলছে কলকাতার বিভিন্ন হাসপাতালে। বিপর্যয়ের পর থেকেই লাগাতার চলছে উদ্ধারকাজ। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এবার এই ঘটনার তদন্তে সিট গঠন করা হল। 

এই ঘটনার পরেই তারাতলা থানায় একটি সুয়োমটো মামলা দায়ের হয়েছে। তাতে ৫ জনের নামে এফআইআর করা হয়েছে।

তার মধ্যে ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। সারা রাত উদ্ধারকাজ চলেছে। বৃহস্পতিবারঅ ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছেন ভারতীয় সেনা, জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যেরা। তবে দুপুরে প্রবল বৃষ্টির কারণে উদ্ধারকাজ ব্যহত হয়। যদিও এখনও পর্যন্ত কতজন ধ্বংসস্তূপে আটকে রয়েছে তার কোনও নির্দিষ্ট তথ্য এখনও প্রশাসনের হাতে আসেনি।  

এ দিন বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মৃতদের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ১ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তার কথা ঘোষণা করেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আগেই মৃতদের পরিবারকে ২ লক্ষ এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণের কথা ঘোষণা করেছেন। এদিন মুখ্যমন্ত্রী নির্মাণের অনুমোদন নিয়ে আগের তৃণমূল সরকারকেও নিশানা করেন।

তিনি কলকাতা পুরসভার অনুমোদন প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। অভিযোগ করেন,  অতীতে কিছু নির্দিষ্ট ব্যক্তির প্রভাব ছাড়া কোনও নির্মাণ পরিকল্পনা অনুমোদন পাওয়া সম্ভব ছিল না। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সরকারের কাছে রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। উদ্ধারকাজ প্রসঙ্গেও তৃণমূল সরকারের সমালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, এত বছর ক্ষমতায় থাকার পরও রাজ্যের কাছে ভারী লোহার কাঠামো কাটার মতো আধুনিক উদ্ধার সরঞ্জাম ছিল না। ফলে দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকাজে সমস্যার সৃষ্টি হয়।

তিনি জানান, পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভারতীয় সেনাবাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। আধুনিক যন্ত্রপাতি ও বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বাহিনী নিয়ে সেনা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজে সাহায্য করে।

সেনার সহায়তায় ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা একাধিক শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলেও দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী।সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্ঘটনার পর প্রায় আধঘণ্টার মধ্যেই উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। পুলিশ, জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, সেনাবাহিনী এবং অসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা যৌথভাবে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন। এখনও ধ্বংসস্তূপের বিভিন্ন অংশে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে, দুর্ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় নির্মাণকাজের উপর কড়া নজরদারির সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, কলকাতা, রাজারহাট-নিউটাউন, মহেশতলা, বজবজ, পূজালি, সোনারপুর, বারুইপুর-সহ একাধিক এলাকায় জরুরি পরিষেবা ব্যতীত সব ধরনের নির্মাণকাজ আগামী চার সপ্তাহের জন্য বন্ধ থাকবে। এই সময়ের মধ্যে অনুমোদিত সমস্ত নকশা ও নির্মাণ প্রকল্পের নিরীক্ষা করা হবে। ইতিমধ্যেই উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি সমস্ত কিছু খতিয়ে দেখবে।  প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের পাশাপাশি ইঞ্জিনিয়ার ও বিল্ডিং বিভাগের আধিকারিকরাও থাকবেন।