তারাতলার ভয়াবহ গোডাউন ধসের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। কলকাতা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত ১১ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়েছে এবং ১৯ জনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। তবে প্রশাসনিক সূত্রের আশঙ্কা, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও কয়েকজন শ্রমিক আটকে রয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
টানা ৩২ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে সেনাবাহিনী, জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, পুলিশ, দমকল এবং কলকাতা পুরসভার যৌথ দল।
এদিকে এই বিপর্যয়কে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেন, ত্রুটিপূর্ণ নির্মাণ এবং অনুমোদন প্রক্রিয়ায় গাফিলতির ফলেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। তিনি প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের স্বাক্ষরিত একটি নথি তুলে ধরে বলেন, এই ঘটনায় দায় এড়ানোর কোনও সুযোগ নেই এবং দোষীদের কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না।
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগে কলকাতা পুরসভার তিন ইঞ্জিনিয়ারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, এই ঘটনায় যাঁদের ভূমিকা রয়েছে, তাঁদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হবে।
ঘটনার তদন্তে ইতিমধ্যেই বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করেছে কলকাতা পুলিশ। অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) কুণাল আগরওয়ালের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের এই দল তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিক তদন্তে নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার, অনুমোদন প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং জমি লিজ নেওয়ার ক্ষেত্রে আইনি ত্রুটির ইঙ্গিত মিলেছে।
এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত গোডাউন মালিক-সহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন লোহার কাঠামো প্রস্তুতকারক সংস্থার মালিক এবং নির্মাণ পরিকল্পনা অনুমোদনের জন্য মধ্যস্থতাকারী এক ব্যক্তিও। তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, এই বিপর্যয়ের নেপথ্যে আর কারা জড়িত এবং কার গাফিলতিতে এতগুলো প্রাণহানি ঘটেছে।
তারাতলার ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও চলছে জীবনের সন্ধান। উদ্ধারকারী বাহিনীর সদস্যরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আশা ছাড়তে নারাজ। তবে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা শহরের নির্মাণ নিরাপত্তা এবং প্রশাসনিক নজরদারি নিয়ে একাধিক গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।