পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: অসমে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা সংস্থাগুলির লাগাতার অভিযানের জেরে ফের বড়সড় সাফল্য পেল পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে গুয়াহাটির পল্টন বাজার এলাকা থেকে ১০ জন সন্দেহভাজন বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করেছে পুলিশ। তল্লাশি ও যাচাইকরণের সময় তাঁরা ভারতে থাকার কোনো বৈধ পরিচয়পত্র বা ভ্রমণ সংক্রান্ত নথি দেখাতে না পারায় তাঁদের হেফাজতে নেওয়া হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পল্টন বাজার থানা এলাকার একটি রুটিন চেকিং বা সাধারণ তল্লাশি অভিযানের সময় এই ১০ জন যুবক পুলিশের নজরে আসেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাঁরা ভারতে তাঁদের আইনি প্রবেশের কোনো সন্তোষজনক প্রমাণ দিতে পারেননি।

এরপরই পল্টন বাজার থানার পুলিশ তাঁদের আটক করে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বিস্তারিত তদন্ত ও নাগরিকত্ব যাচাইয়ের জন্য সীমান্ত পুলিশের হাতে তুলে দেয়।

তদন্তকারী আধিকারিকেরা জানিয়েছেন, সীমান্ত পুলিশের পক্ষ থেকে তাঁদের জাতীয়তা এবং ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। দীর্ঘ জেরার মুখে ধৃত ব্যক্তিরা স্বীকার করেছেন যে তাঁরা বাংলাদেশের নাগরিক এবং অবৈধ উপায়ে সীমান্ত পার হয়ে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে, প্রচলিত আইনি নিয়ম ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া মেনে তাঁদের আন্তর্জাতিক সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ‘পুশব্যাক’ বা ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে প্রশাসন।

অনুপ্রবেশকারীদের পাশাপাশি এবার তদন্তকারীদের নজরে এসেছে পল্টন বাজারের ওই লজটি, যেখানে এই ১০ জন বাংলাদেশি আশ্রয় নিয়েছিলেন।

লজের মালিক হৃদয় ডেকা নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে সরকারি নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। লজিং রেগুলেশন বা হোটেল সংক্রান্ত নিয়ম অনুযায়ী, যেকোনো আবাসিককে ঘর দেওয়ার আগে তাঁর বৈধ পরিচয়পত্র যাচাই করা এবং সঠিক রেকর্ড রাখা বাধ্যতামূলক। কিন্তু অভিযোগ, হৃদয় ডেকা এই নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ওই বিদেশিদের থাকার জায়গা দিয়েছিলেন। লজ মালিকের ভূমিকাও বর্তমানে খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

গুয়াহাটিতে এক সপ্তাহের মধ্যে এটি দ্বিতীয় বড় অনুপ্রবেশ বিরোধী অপারেশন। এর ঠিক কয়েকদিন আগে, গত ১৯ জুন গুয়াহাটিরই আর্য নগর এলাকা থেকে ১৩ জন সন্দেহভাজন বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। তাঁরাও কোনো বৈধ নথি দেখাতে পারেননি এবং যাচাইকরণের পর তাঁদেরকেও নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো বা ডিপোর্ট করা হয়েছিল।